শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

স্বাধীনতা দিবসে ভোজের থালায় দেশি-ফিউশন-ককটেল

চৈতালী চক্রবর্তী

প্যাচপ্যাচে গরম হোক, বা মুষলধারে বৃষ্টি— যে ভাবেই দিনটা শুরু না হোক না কেন, বচ্ছরকার এই দিনটাতে তো কব্জি ডুবিয়ে খেতেই হবে। খাওয়ার ব্যাপারে ও সব গরম-বৃষ্টির তোয়াক্কা করলে চলে না। তাই স্বাধীনতা দিবসের আগেই বাড়ির হেঁশেলকে একটু স্বস্তি দিতে বেশ কোমর কষেই নেমেছে শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো।

সব কিছুরই তো পরিকল্পনা-প্রস্তুতি পর্ব থাকে! স্বাধীনতা দিবসের খানাপিনাও সেজে উঠেছে তেরঙ্গায়। এই দিন সক্কাল সক্কাল স্কুল-কলেজ, অফিস বা পাড়ার সাবেক অনুষ্ঠান সেরে একটু জিরিয়ে নিয়েই চলে যান রেস্তোরাঁয়। নববর্ষ হোক বা স্বাধীনতা দিবস, তিলোত্তমা মানেই হল উৎসবের সঙ্গে মানানসই ভোজবিলাস। নববর্ষে যদি থিম কলকাতা হয়, একটু বাঙালি ঘেঁষা খাবার, তা হলে স্বাধীনতা দিবসে নবাবি ঘরানার বিরিয়ানি থেকে চিনা কুইসিন ঘুরে অ-বাঙালি ফিউশন মেনু চলতেই পারে। ক্ষতি কী!

দিনভর উত্তর থেকে দক্ষিণে ঘুরুন টই টই করে। খাবারের পসরা সাজিয়ে রেখেছে শহরের নামী দামি ক্যাফে-রেস্তোরাঁগুলো। থিম স্বাধীনতা নিয়ে পেটপুজোর পছন্দে প্রথম দিকেই জায়গা করে নিচ্ছে অওধ ১৫৯০, চ্যাপ্টার টু থেকে হোয়াটস আপ ক্যাফে।

বাঙালির বিরিয়ানি প্রেম নতুন নয়। লখনউয়ের নবাবি ধাঁচের হোক বা খাস কলকাত্তাই বিরিয়ানি, বাঙালি কোনওটাতেই ভেদাভেদ করে না। এ বছর ৭২তম স্বাধীনতা দিবসে দেশপ্রিয় পার্কের অওধ ১৫৯০ রেস্তোরাঁ হরেক কবাব ও বিরিয়ানির খেল দেখাবে। সেখানকার শেফের বিশেষ পছন্দ রান বিরিয়ানি উইথ মটন গলৌটি কাবাব। গোস্ত ভুনার সঙ্গে রসনায় ঝড় তুলবে লাসুনি পালক।

খাস লখনউই অওয়াধি শৈলীকে ধরে রেখে অওধ আপনার পাতে তুলে দেবে 
ডুমো ডুমো আলু আর হাড়-মাসে সমৃদ্ধ নরম মাংসের টুকরো সহযোগে হান্ডি বিরিয়ানি, অওয়াধি পালক বিরিয়ানি, কাকোরি কাবাব। নবাবি স্বাদে শান দিতে শেফেরা বানাচ্ছেন লা-জবাব গোস্ত কুন্দন কালিয়া, মাহি চাপ,গোস্ত ভুনা ও নেহারি খাস।

দেশপ্রিয় পার্ক হোক, বা বালিগঞ্জের হেমন্ত মুখার্জি সরণি বা সল্ট লেকের সিডি ব্লক-সুখাদ্যের টানে যাঁরা শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছোটাছুটি করেন অওধ ১৫৯০ তাঁদের মন ভরাবেই। তাহলে স্বাধীনতা দিবসের শুরুটা অভিজাত মোগলাই খানা দিয়েই শুরু করতে পারেন ভোজনরসিকেরা।

এ তো গেল নবাবি খানা-খাজানার হদিস। তবে রাজকীয় ভোজ-বিলাস থেকে বেরিয়ে একটু অন্য স্বাদের খোঁজ করছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য জমাটি আয়োজন রেখেছে মনি স্কোয়ারের চ্যাপ্টার টু রেস্তোরাঁ। স্বাদগন্ধেই তাঁর আবেদন। ভারতীয় ডেলিকেসির সঙ্গে সঙ্গত করবে হরেক কিসিমের কন্টিনেন্টাল ডিশ। প্রণ অন টোস্ট, ডেভিলড ক্র্যাব, ল্যাম্ব পেপার স্টেক দিয়ে মেনু সাজাতে শুরু করে দিয়েছে চ্যাপ্টার টু

গোলমরিচ আর মাখনের স্বাদে মজানো তুলতুলে পর্ক ভিন্দালু মাশরুম সসের সঙ্গে পর্কপ্রেমীদের আমোদিত করবেই। শাকাহারীদের জন্য মুলিগাটানি বা ক্রিম অব টোম্যাটো স্যুপের ব্যবস্থা। স্টার্টার পর্বে পাঁউরুটির শয্যায় প্রন অন টোস্ট বা চিকেন লিভার ‘পাতে’র দেখা মিলবে। ভেজিটেবল ক্যান্নেলোনি,চিকেন স্টেকের সঙ্গেটাটকা মশলার সুগন্ধে ভরপুর মাটন ক্যাসেরোল স্বাদ কোরককে উল্লসিত করবেই। ভরপেট খাওয়া হলেও মনে হবে “শেষ হয়েও হইল না শেষ”।

স্বাধীনতার সকালে শহরের সাহেবিয়ানায় আস্কারা দিতে তৈরিই আছে চ্যাপ্টার টু। নয়া স্বাদের সুখাদ্যের সঙ্গে সুন্দরী মায়াবী পরিবেশের মেলবন্ধন। চ্যাপ্টার টু-য়ে ঢুঁ মেরে দেখে ও চেখে মুগ্ধ হবেন এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারি।

বাঙালি ঘরানায় কবেই বা বাধ সেধেছে অ-বঙ্গীয় সুস্বাদ? কন্টিনেন্টাল বা ফিউশনে মন মজাতে বুফে সাজিয়েই রাখবে হোয়াটস আপ! ক্যাফে। দেশি স্বাদের সঙ্গেই মিলেমিশে যাবে ভিনদেশী ককটেল। সব খাবারই সেজে উঠবে তেরঙ্গায়। কন্টিনেন্টালের সঙ্গে থাকবে চাইনিজ টাচ।

ফালাফেল ইন পিটা পকেট, পিটা ব্রেড উইথ হুমুস, তান্দুরি প্রন, চিকেন মোমো, নুডলস, ফ্রায়েড রাইসে থাকবে চমক। সুস্বাদু খাবারের সঙ্গে সুরা-সক্তদের জন্য থাকবে ‘দ্য আরবান মঙ্কজ’-এর স্পেশাল পারফরম্যান্স। শহরে রেস্তোরাঁ-বিলাসের পরিসরে পছন্দের খানার সঙ্গে ককটেলে সঙ্গীত মূর্ছনা কিছু নতুন ব্যাপার নয়। কারণ আমোদ-আহ্লাদ-হুল্লোড়ে মজে থাকতেই বেশি পছন্দ করে বাঙালি। সেই সুযোগই সাজিয়ে গুছিয়ে পরিবেশন করতে হাজির হোয়াটস আপ! ক্যাফে। তেরঙ্গার বাহারে ট্রাডিশনাল সাজে সজ্জিতদের জন্য খাবারের দামে থাকবে ১০% ছাড়। পুরোপুরি থিমের আমেজ।

এ বার চ্যালেঞ্জটা কল্লোলিনী তিলোত্তমার রসিক খাইয়েদের দিকেই। দিন তো মোটে একটা। এত রান্না চেখে দেখার সময় কই। তাই পেটপুজোয় পছন্দের লিস্টি বানানো শুরু করে দিন। অতএব! আপনি কোথায় যাচ্ছেন?

Leave A Reply