শনিবার, জুলাই ২০

আউটডোর চালু করেও বন্ধ করে দেওয়ায় ফের অশান্তি বাঁকুড়া মেডিক্যালে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া হুঁশিয়ারির পরেও কর্মবিরতিতে অটল জুনিয়র ডাক্তাররা। ফলে রাজ্যের প্রায় সমস্ত হাসপাতালেই এখনও অমিল স্বাভাবিক পরিষেবা। একদিকে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা, অন্যদিকে পরিষেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ রোগী ও তাদের পরিজনরা জোট বাধায় অনেক জায়গাতেই চরমে উঠেছে উত্তেজনা। মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলির সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।

সকালের দিকে আউটডোর খোলা হলেও বেলা বাড়তেই ভিড়ের চাপে আউটডোর বন্ধ করে দেওয়া হল বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এ দিন ফের রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতালের সামনে রাস্তায় অবরোধ শুরু করেন। ফলে জেলা শহরে এক মাত্র বাসস্ট্যাণ্ড গোবিন্দনগরে ঢোকার মুখে আটকে পড়ে সমস্ত যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহন। তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে গোটা এলাকায়। কর্ত্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্ত সিনিয়র ডাক্তারদের ‘ছুটি বাতিল’ করে আউটডোর পরিষেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষপর্যন্ত ভিড় সামাল দেওয়া যায়নি বলে বন্ধ রাখা হয় পরিষেবা। হাসপাতালের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।

আন্দোলন তুলে নেওয়ার জন্য গতকাল মুখ্যমন্ত্রী চার ঘণ্টা সময় বেধে দেওয়ার পরেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র ডাক্তাররাও সমর্থন জানিয়েছিলেন জুনিয়রদের আন্দোলনকে। আজ তাঁরা কেউ হাসপাতালের আউটডোরে যাননি। কয়েকজন সিনিয়র ডাক্তার বাইরে শিবির করে রোগী দেখার কাজ করছেন। জরুরি বিভাগে উপস্থিত রয়েছেন কয়েকজন চিকিৎসক। এরই মধ্যে সাইকিয়াট্রি বিভাগের দু জন চিকিৎসক আজ জুনিয়রদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন বলে জল্পনা। হাসপাতালের সুপার কৌশিক সমাজদার বলেন, “জুনিয়র ডাক্তাররাই কাজের মূল স্তম্ভ। তাঁরা যতক্ষণ কাজে যোগ না দিচ্ছেন, ততক্ষণ কিছুতেই স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানো সম্ভব নয়।”

জুনিয়ার ডাক্তারদের কর্মবিরতির চতুর্থ দিনে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজও। এ দিন সকালে আউটডোর বন্ধ থাকার খবর ছড়াতেই ক্ষোভ জন্মাতে থাকে রোগীর পরিজনদের মধ্যে। এরপর জুনিয়র ডাক্তাররা জরুরি বিভাগের গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করলে সেই দিকে তেড়ে যায় রোগীর পরিজনেরা। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Comments are closed.