সোমবার, মে ২৭

রক্ত দিতে দেরি? বর্ধমানে রোগী মৃত্যুতে কাঠগড়ায় ব্লাডব্যাঙ্ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান :  চিকিৎসায় গাফিলতি, নার্স-ডাক্তারদের খারাপ ব্যবহারের পর এ বার ব্ল্যাডব্যাঙ্ক থেকে রক্ত দিতে দেরি করায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠলো বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বুধবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবার। মৃত ওই ব্যক্তির নাম জয়দেব হাজরা (৬১)। তাঁর বাড়ি নদিয়ার কালিগঞ্জ থানার মাটিয়ারি এলাকায়। এ দিন ভোর চারটে নাগাদ কাটোয়া হাসপাতাল থেকে  এনে তাঁকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর কাশির সঙ্গে রক্ত উঠছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের রাধারানী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলে ডাক্তাররা তাঁকে রক্ত দিতে হবে বলে জানান।

মৃতের ভাইপো সুবীর হাজরা জানান, রক্তের রিকুইজেশন নিয়ে সকাল ৬টার সময় হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে যান তিনি। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, সেখানকার ডাক্তার রক্তের বিষয়ে কোনও গুরুত্ব দেননি। সুবীর বলেন, “রাধারানী ওয়ার্ড থেকে ডাক্তারবাবুও ব্লাডব্যাঙ্কে এসে রক্তের দেওয়ার আর্জি জানান। কিন্তু তাতেও কোন কর্ণপাত করেননি কর্তব্যরত চিকিৎসক। সকাল ৬ টায় রিকুইজেশন ও স্যাম্পেল ফাইল জমা দিলেও রক্ত মেলে সকাল এগারোটার পর। রক্ত নিয়ে ওয়ার্ডে ফিরে দেখি কাকা মারা গেছেন।”

এরপরেই ক্ষোভ জানাতে থাকেন রোগীর পরিজনরা। তাদের দাবি, এক ইউনিট ‘এ’ পজিটিভ রক্তের জন্য ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে না হলে, রোগী হয়তো বেঁচে যেতেন।

হাসপাতালের ডেপুটি সুপার অমিতাভ সাহা বলেন, “আমরা অবিযোগ পেয়েছি। যে ডাক্তারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ জমা পড়েছে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ওঁর সাথে কথা বলা হবে। কী কারণে রক্ত দিতে দেরি, তা খতিয়ে দেখা হবে। যদি দোষ প্রমাণিত হয় তবে আমারা গোটা ঘটনা স্বাস্থ্যভবনে জানাবো। ওখান থেকেই যা ব্যবস্থা তা নেওয়া হবে।”

Shares

Comments are closed.