বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

লোকসভার টিকিট পাকা করেই কি তৃণমূলে পা রেখেছিলেন পরেশ অধিকারী? উঠছে প্রশ্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার : দর কষাকষিটা না কি হয়ে গিয়েছিল তখনই। অর্থাৎ গত বছরই। যখন লাল শিবির ছাড়ার জন্য মনে প্রাণে তৈরি হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তিনি, মানে পরেশ অধিকারী। বাম জমানায় উত্তরবঙ্গের অবিসংবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা। দীর্ঘদিনের খাদ্যমন্ত্রীও বটে।
দৃশ্যতই চওড়া কপাল পরেশের। রাজনীতির লোকজন বলছেন, ব্যাপক অর্থেও না কী তাই। তাই গতকাল তৃণমূল নেত্রী কোচবিহার আসনে সিটিং এমপি পার্থপ্রতীম রায়ের বদলে যখন প্রার্থী হিসেবে পরেশ অধিকারীর নাম ঘোষণা করছেন, তখন থেকেই জনান্তিকে চোখ চাওয়াচাউয়ি, ঠোঁঠে হাসি বুলানো চলছে তৃণমূল শিবিরে। আর বিজেপি শিবিরে আলোচনার পুরোটাই প্রকাশ্যে। কারণ অতীত মনে পড়ে গিয়েছে অনেকেরই।
বিজেপির মেখলিগঞ্জ মণ্ডল সভাপতি দধিরাম রায় বলছিলেন , “পরেশ অধিকারীর বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টি তো পাকা হয়ে গিয়েছিলো। এই বিষয় নিয়ে স্থানীয় স্তরে আলোচনা করে রাজ্য কমিটিকে জানানো হয়। সেই অনুযায়ী উনি কলকাতাও গিয়েছিলেন। পরে পরেশবাবু হঠাৎ করেই তৃণমূলে চলে যান।”
আবার তাঁরাই বলছেন, “আসলে কপালে থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব। নাহলে এমন কেন হবে?” সূত্রের খবর তিনি যে বিজেপিতে যাচ্ছেন, পুলিশ মারফত সেই খবর পৌঁছেছিল রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের কাছে। হঠাৎ একদিন গভীর রাতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। খোঁজ শুরু হয় পরেশ অধিকারীর। ঐ দিন উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস করে কলকাতা থেকে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন পরেশবাবু। উত্তরবঙ্গের এক মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, ট্রেন থেকে নামলেই তাঁর সঙ্গে কথা বলার।
এরপর একদিন সকালে এক মন্ত্রীর সাথে অত্যন্ত গোপনে তাঁর কলকাতা যাওয়া। সেদিনই বিকেলের বিমানে বাগডোগরায় নেমে এক মন্ত্রীর গাড়িতে মেখলিগঞ্জে নিজের বাড়িতে ফিরে আসা। অত্যন্ত গোপনে হলেও এই ঘটনা অনেকেরই জানা। ইতিমধ্যেই পরেশবাবুর নামে চ্যাংড়াবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান হওয়ার চিঠি এসে হাজির। তবে সরাসরি সমস্ত অস্বীকার করেন পরেশবাবু। দিন দুয়েক পরেই মেখলিগঞ্জে ফরোয়ার্ড ব্লকের হয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মিছিলে পা মেলান তিনি। নিজের বুক চিরে দেখতে চান তাঁর ভেতরে রয়েছে ফরোয়ার্ড ব্লকের ঝান্ডা ।

এর কয়েকদিন পরেই অবশ্য কলকাতায় গিয়ে তৃণমূলের মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা গ্রহণ করেন পরেশবাবু। সঙ্গে সঙ্গেই মেধাতালিকা টপকে বাড়ির পাশের স্কুলে তাঁর মেয়ে অঙ্কিতার চাকরি। নাম প্রকাশে রাজি না হওয়া তৃণমূলের এক নেতার কথায়, “যোগদানের সময়েই দর কষাকষি চলাকালীন পরেশবাবু লোকসভার টিকিট দাবি করেছিলেন।”
তবে এ প্রসঙ্গে পরেশবাবুর কোনও বক্তব্য জানা যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গতকাল থেকে বন্ধ রয়েছে তাঁর ফোন।

Shares

Comments are closed.