শনিবার, জানুয়ারি ২৫
TheWall
TheWall

চেয়েও পাননি নিরাপত্তা রক্ষী, হরির ভরসায় দিন কাটে বিজেপি বিধায়কের

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

বিবেক সিংহ, মালদা : কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক খুনের পর জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বাড়াতে বাড়তি উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য। বিধায়কদের নিরাপত্তারক্ষী বাড়ানোর সঙ্গে পুরসভার কাউন্সিলরদের জন্যেও দেওয়া হচ্ছে সশস্ত্র পুলিশ। অথচ তিন বছরে সাত বার চিঠি দিয়ে এখনও নিরাপত্তা রক্ষী পাননি মালদার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক। তাই আপাতত হরির ভরসা তিনি।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে নিরাপত্তা রক্ষী দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বিধায়কের । অন্যদিকে ‘‘বিজেপি বিধায়কের নিরাপত্তার কী দরকার? তাদের জন্যইতো আমাদের নিরাপত্তা বাড়াতে হচ্ছে।’’ কটাক্ষ জেলার এক তৃণমূল নেতার ।
নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের পর সারা রাজ্য জুড়ে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু হয়েছে। ব্যতিক্রম নয় মালদাও। সোমবার জেলার বিধায়কদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ইংরেজবাজার থানায় বৈঠক করলেন মালদার ডিআইজি সুজিত সরকার। উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের পদস্থ কর্তারা। ওই বৈঠকে জেলার বিধায়কদের একজন করে দেহরক্ষী বাড়ানোর প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। এই বৈঠকে বাম, তৃণমূল ও কংগ্রেসের বিধায়করা উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না মালদা জেলার এক মাত্র বিজেপি বিধায়ক স্বাধীন সরকার।
স্বাধীনবাবু জানান, ওই বৈঠকে নাকি ডাকাই হয়নি তাঁকে। জেলার সমস্ত বিধায়কের নিরাপত্তা বাড়ানো হলেও বিজেপির বিধায়কের বেলায় দ্বিচারিতা কেন? স্বাধীনবাবুর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের পর একাধিকবার নিজের নিরাপত্তা চেয়ে সশরীরে হাজির হয়েছেন বিধানসভার স্পিকারের কাছে। নিরাপত্তারক্ষী চেয়ে একাধিক বার আবেদন করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপির বিধায়ক বলেই নিরাপত্তা দিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। তাই হরির উপরে ভরসা রেখেই দিন কাটাচ্ছি।’’
নিরাপত্তা চাওয়ায় স্বাধীনবাবুকে কটাক্ষ করলেন মালদা জেলার তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি দুলাল সরকার। তিনি আবার ইংরেজবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানও বটে । বললেন, ‘‘বিজেপি বিধায়কের নিরাপত্তার কোনও দরকার নেই। ওঁদের জন্যই তো তৃণমূল নেতা কর্মীদের নিরাপত্তার প্রয়োজন পড়ছে। হাজার হাজার মানুষ নিজের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হচ্ছে ,তাদের সবাইকে কি নিরাপত্তা দিতে হবে ?’’
রাজ্য সরকার যেখানে বিধায়কদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেষ্ট, সেখানে দাঁড়িয়ে জেলা তৃণমূল নেতার এ হেন মন্তব্যে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বাসিন্দাদের অনেকেরই যুক্তি, এক জন কাউন্সিলরকে যদি নিরাপত্তা রক্ষী দেওয়া হয় তবে বিধায়ককে কেন নয়? তা হলে কি দলের রঙ দেখে নিরাপত্তা দেবে রাজ্য?
জেলার এসপি ছুটিতে। তাই কথা বলা যায়নি তাঁর সঙ্গে। অ্যাডিশনাল এসপি (গ্রামীণ) দীপক সরকারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’’ আর জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘কেউ আমার কাছে কোনও আবেদনপত্র পাঠাননি। আমি কিছু বলতেও পারব না।’’

Share.

Comments are closed.