শনিবার, মার্চ ২৩

ভরা সভায় এ বার দলের কর্মীদের ভোট চুরির পরামর্শ অনুব্রতর

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম : কখনও তিনি দাওয়াই দিয়েছেন ‘‘পুলিশকে বোম মারো’’, কখনও আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘‘রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে’’, কখনও আবার বিরোধীদের জন্য পাচনের নিদান দিয়েছেন। সেই পালকেই নতুন মুকুট জুড়লেন অনুব্রত মণ্ডল। বীরভূমের তৃণমূলের অবিসংবাদী নেতা এ বার ভরা সভায় ভোট চুরির পরামর্শ দিলেন শিষ্যদের।

বুধবার বীরভূমের পুরান্দরপুরে একটি কর্মী সভায় হাজির ছিলেন অনুব্রত। হালকা মেজাজে রীতিমতো শিক্ষকের মতো করে উপস্থিত দলের কর্মীদের বুঝিয়ে দিলেন, ভোট এসে গেছে, তাই কী ভাবে ঝাঁপাতে হবে ময়দানে। সভায় পৌঁছেই প্রথমে অঞ্চল সভাপতিদের মঞ্চে ডাকলেন অনুব্রত। তারপর শুরু হয় প্রশ্ন উত্তর পর্ব । পছন্দের প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর না হলেই বকাঝকা।

স্থানীয় অঞ্চল সভাপতি শেখ সামিরুলের উদ্দেশে বলেন,”এলাকায় ভোটার কত?

১০ হাজার ভোটার শুনেই পরের প্রশ্ন ‘‘আগের বার লিড কত ছিল? ’’

উত্তর  আসে  ২২০০।

পরের প্রশ্ন, ‘‘এ বার কত হবে?’’

অঞ্চল সভাপতির আমতা আমতা শুনেই বলে উঠলেন, ‘‘এত উন্নয়ন করেছি। ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে দিয়েছি। রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে। এরপরেও হবে না? ’’ এরপর নিজেই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করে দেন চার হাজার। তারপরেই কৌতুকের সুরে পরামর্শ, ‘‘অন্যরা যে ভাবে ভোট চুরি করে সেই ভাবে ভোট চুরি করবেন। কি ? পারবেন না?”

জেলা সভাপতি মজা করে বললেও তাঁর কথায় সমর্থন না জানিয়েও উপায় নেই, তাই লজ্জায় লাল হয়ে  সামিরুল উত্তর দিলেন,”হ্যাঁ পারবো।’’

সমস্ত অঞ্চল সভাপতিকে  এক এক করে মঞ্চে ডাকেন অনুব্রত। জিজ্ঞাসা করেন কত ভোটার আছে? কত ভোটে লিড হয়েছে? যদি লিড না থাকে তাহলে সেই অঞ্চল সভাপতির কপালে জুটলো বকুনি। সব শেষে সভায় আসা মানুষদের উদ্দেশে প্রশ্ন ,‘‘ কেমন কাজ করেন ওই এলাকার অঞ্চল সভাপতি ?’’

জেলা সভাপতির মন রেখেই উত্তর দিলেন একে একে।

তবে অনুব্রতর ভোট চুরির দাওয়াইয়ে ফের বিতর্ক জেলা জুড়ে। হাসনের কংগ্রেস বিধায়ক মিল্টন রশিদ বললেন, ‘‘উন্নয়ন এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলো, তবু সেই ভোটচুরির পথেই হাঁটতে হচ্ছে। এ রাজ্যে সবই সম্ভব।’’

Shares

Comments are closed.