ডায়েটে দিনে এক লিটার সয় সস! সেরিব্রাল হেমারেজে মস্তিষ্কের মৃত্যু যুবতীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়েট করা ভালো। তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েই। চটজলদি রোগা হওয়ার সুতীব্র বাসনা নিয়ে যাঁরা নিত্যদিন নানা বিজ্ঞাপনী প্রতিবেদন খুলে বসেন তাঁদের যে বিপদ ঘণ্টি আর কিছুদিন পরেই বেজে উঠবে সেটা বলাই বাহুল্য। নানা ওয়েবসাইট ঘেঁটে ক্র্যাশ ডায়েটের চার্ট বার করে সেটা মানতে গিয়ে আগেও সমস্যায় পড়েছেন উঠতি মডেল থেকে কলেজ পড়ুয়া তরুণীরা। অপুষ্টির শিকার হয়ে মৃত্যু হয়েছে অনেকেরই। এ বারেও খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে ঠিক এমনই একটা ঘটনা। বিজ্ঞাপনী চমকে ভুলে এক লিটার সয় সস খেয়ে ফেলে জীবনের অন্তিম সময় ঘনিয়ে আসছে এক যুবতীর।

ঘটনাটা আমেরিকার। বছর উনচল্লিশের ওই মহিলাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর শরীর নিস্তেজ হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানান সেরিব্রাল হেমারেজের ফলে মস্তিষ্কের মৃত্যু হয়েছে যুবতীর। রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত। স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

মহিলার স্বামী জানিয়েছেন, ওজন কমানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই নানা ডায়েট চার্ট মেনে চলছিলেন তাঁর স্ত্রী। তার জন্য কোনও ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শও নেননি তিনি। নানা সাইট খুলে পছন্দের তালিকা বার করে ডায়েট শুরু করেছিলেন। ক্যানড ফিস আর পাঁউরুটি, এই ছিল তার খাবারের তালিকা। এইভাবে ১১ কেজি ওজনও নাকি ঝরিয়ে ফেলেছিলেন। তাতে উৎসাহ আরও বেড়ে যায়। দিনকয়েক ধরে তাঁর মাথায় ঘুরছিল ডিটক্সের নানা প্রক্রিয়া। স্বামীকে নাকি জানিয়েওছিলেন যে, কোলন থেকে টক্সিন ছেঁকে বার করতে পারে সয় সস। একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিবেদন নাকি এমনটাই দাবি করেছে।

কারও নিষেধ না শুনে সয় সস খাওয়া শুরু করেন যুবতী। চটজলদি ডিটক্স হওয়ার জন্য নাকি ভুলবশতই এক লিটার সয় সস খেয়ে ফেলেন তিনি সেটা এখন খতিয়ে দেখার অবকাশ নেই। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দু’ঘণ্টার মধ্যেই ওই এক লিটার সস নিঃশেষ করেছিলেন তিনি। তাতেই রক্তে নুনের পরিমাণ বেড়ে যায় প্রায় ২০০ গ্রাম। অতিরিক্ত সোডিয়াম বার করার প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই সেরিব্রাল হেমারেজ হয়ে যায় যুবতীর।

ওজন কমিয়ে আকর্ষণীয় হওয়ার ঝোঁক চেপে বসেছিল যুবতীর।  চিকিৎসকদের কথায়, তাঁর স্বামী ও পরিবারের অন্যান্যদের থেকে জানা গেছে মানসিক রোগ ধীরে ধীরে বাসা বাঁধছিল যুবতীর মনে।   প্যারানয়েড স্কিৎজোফ্রেনিয়া গ্রাস করছিল তাঁকে।  সয় সস খাওয়ার ভাবনাটা তাই বিজ্ঞাপনের চমকের কারণে নাকি নিজে থেকেই এমন একটা চিন্তাকে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন যুবতী সেটাও ভাবনার বিষয়।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More