সোমবার, অক্টোবর ১৪

তিন নদী ন’বার পেরিয়ে যেতে হয়, সে গ্রামের দুই কিশোরী বিজ্ঞানী হতে চায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার : তিতি, হাউড়ি আর বাংরি- তিনটি নদী মোট ন’বার ডিঙিয়ে তবেই পৌঁছোনো যায় ভুটান পাহাড়ের কোলে ছোট গ্রাম টোটোপাড়ায়। আদিম এই জনজাতির মাত্র ১৫৮৫ জন মানুষের বাস এখন সেখানে। তাঁদের মধ্যে মহিলা ৭৬৩ জন। প্রিয়া আর প্রতিমা তাঁদেরই প্রতিভূ। পাহাড়ের গায়ে ভুট্টা আর মারুয়া ফলিয়েই দিন চলে তাঁদের। বাইরে জগতে আসা যাওয়া প্রায় নেই বললেই চলে। এ পর্যন্ত টোটো সমাজে গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন পাঁচজন। মাস্টার্স একজন। এমএ। সেই টোটোপাড়ার মেয়ের বিজ্ঞানচিন্তায় চমকে উঠল গোটা জেলার শিক্ষামহল।

বিজ্ঞান ভাবনায় নজর কাড়ল দুই টোটো কন্যা। জেলাস্তরের বিজ্ঞান কংগ্রেসে জিতে নিল পুরস্কারও। ক্লাস নাইনের প্রিয়া টোটো ও ক্লাস টেনের প্রতিমা টোটোকে নিয়ে রীতিমতো সাড়া পড়ে গেল জেলাজুড়ে।

কী ভাবে জৈব সার ব্যবহার করে টোটোপাড়ার চাষবাসে পরিবর্তন আনা যায়, কী ভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে টোটোপাড়া , সেটাই দুই কন্যার ভাবনা। আলিপুরদুয়ার রেলওয়ে হাইস্কুলে আয়োজিত জেলা বিজ্ঞান কংগ্রেসে আসা দর্শকদের টোটো ভাষায় সেই প্রকল্পের খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দিলেন নবম শ্রেণির প্রিয়া টোটো। সেই ভাষাকে আবার বাংলা ও ইংরাজিতে তর্জমা করে বুঝিয়ে দিল দশম শ্রেণির প্রতিমা। সঙ্গে ছিলেন ধনপতি টোটো মেমোরিয়াল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মিশা ঘোষাল। এই স্কুলেরই ছাত্রী প্রিয়া আর প্রতিমা।

দুই ছাত্রীর কথায় , “বিজ্ঞান আমাদের প্রিয় বিষয়। কারণ এটুকু বুঝেছি বিজ্ঞান পড়লেই পাল্টে ফেলা যাবে আমাদের চারপাশের অনেক কিছু। অনেক অসুবিধা।”

এখনও জেলার অন্য প্রান্ত থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন এই টোটোপাড়াকে খাদ্য বস্ত্র সহ নানান জিনিসের জন্য অন্য এলাকার উপর নির্ভর করতে হয়। দুই ছাত্রীর ভাবনা তাই খুবই যুক্তিপূর্ণ বলে মনে করছে জেলার শিক্ষা মহল। আলিপুরদুয়ার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক তপন সিংহ বলেন, “প্রত্যন্ত এলাকার টোটো সম্প্রদায়ের ছাত্রীদের মধ্যে এই বিজ্ঞান ভাবনার নজির সত্যি আমাদের গর্বিত করছে। ওরাও যে বিজ্ঞান ভাবনায় এগিয়ে যাচ্ছে এটা জেনে সত্যি খুব ভালো লাগছে।”

 

Comments are closed.