রবিবার, ডিসেম্বর ১৫
TheWall
TheWall

কাটমানি ফেরতের দাবিতে ঘেরাও ‘কেষ্ট’, প্রথমে নিরুত্তর, পরে হো হো হাসি

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান : এ বার কাটমানি বিক্ষোভের মুখে খোদ কেষ্ট মণ্ডল!

নিজের খাসতালুকেই কাটমানি নিয়ে ক্ষোভের মুখে অনুব্রত। বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তিনি। পাশাপাশি পূর্ববর্ধমানের আউশগ্রাম, মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রামের দলীয় পর্যবেক্ষক। সশস্ত্র নিরাপত্তাবাহিনী বেষ্টিত শাসকদলের এই দাপুটে নেতার সামনে কেউ আওয়াজ তুললেন, আমাদের টাকা ফেরত চাই। কেউ আবার রীতিমতো টিপ্পনি কেটে বললেন, ‘সততার প্রতীক ভাই, কাটমানি ফেরত চাই। আমাদের টাকা ফেরত চাই।’ বোঝো ঠ্যালা। ক্ষোভ বিক্ষোভ বা অতশত কাণ্ডের পরেও তিনি কিন্তু নিরুত্তাপ। শুধু তাই নয়, নিরুত্তরও। এই বিক্ষোভের মুখে তিনি চুপচাপই বসেছিলেন। বলা যায় পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। এবং পরে একটুও বিরক্ত না হয়ে খানিক হেসেও নিয়েছেন। খুব ধাঁধা মনে হচ্ছে? পুরোটা জানলেই রহস্য উদ্ঘাটন হবে।

প্রতি বছরের মতো এ বছরও ঝুলন সাজিয়েছে বেলাড়ি গ্রামের মানুষ। আর সেখানেই অনুব্রত মণ্ডলকে মাঝে বসিয়ে কাটমানির টাকা ফেরত চাইছেন গরিব উপভোক্তারা। ঝুলনের থিমেও কাটমানি, নজর কেড়েছে দর্শনার্থীদের। তবে এ ঝুলনের বৈশিষ্ট্য, এখানে পুতুল নয়, চরিত্রের রূপ দেয় গ্রামের ছেলেপুলেরাই।

প্রায় তিন দশক ধরে জনপ্রিয় বেলাড়ি গ্রামের ঝুলন উৎসব। প্রতি বছর বেলাড়ি গ্রামীণ পাঠাগার ও সূর্য সংঘ গ্রামের ফুটবল মাঠে ঝুলন উৎসবের আয়োজন করে। গ্রামের কচিকাঁচারা তো বটেই প্রবীণরাও সাজসজ্জা করে ঝুলনে অংশ নেন। দূরদূরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী ঝুলন দেখতে ভিড় করেন বেলাড়ি গ্রামে। এ বার অন্যান্য কয়েকটি থিমের পাশাপাশি কাটমানিকেও থিম হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। আর এই থিমই হিট। তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে অনুব্রত মণ্ডল সাধারণ মানুষদের নিয়ে দরবার করছেন। তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী। গরিব উপভোক্তারা হতাশ হয়ে কাটমানি ফেরত চাইছেন নেতার কাছে। এই দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন বেলাড়ি গ্রামেরই কয়েকজন কচিকাঁচা। বেলাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ভারিক্কি চেহারার রনি পাল অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকায়।

এ কথা জানতে পেরে হো হো করে হেসে ফেললেন অনুব্রত মণ্ডল। বললেন, “দারুন মজার থিম করেছে তো। সবাই মিলেমিশে আনন্দ করুক, এটাই কামনা করি।” আবার একইসঙ্গে এও বললেন, “বারবার দলীয় কর্মীদের কাছে বলা হয়েছে কোনও গরিব মানুষের কাছে কাটমানি নেওয়া যাবে না। সাধারণ মানুষেরও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কাউকে কাটামানি না দেন।” জানালেন, বেলাড়ি গ্রামের উদ্যোক্তারা তাঁকেও ঝুলন উৎসবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার জন্য যেতে পারেননি তিনি।

ক্লাবের কর্মকর্তা সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই থিমের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই এই দৃশ্য ঝুলনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতি বছরই তাঁরা একেবারে সাম্প্রতিক ঘটনা ঝুলনে তুলে ধরেন মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য। এই বছর কাটমানি বড় ইস্যু। তাই এই ইস্যুকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।”

ঝুলনে কাটমানি আর অনুব্রত, বেলাড়ি গ্রামে রীতিমতো হিট। তবে কাটমানি ফেরত চেয়ে বিভিন্ন নেতানেত্রীর বাড়ি ঘেরাও, বিক্ষোভ বা পোস্টার পড়লেও অনুব্রতর ঘরে কিন্তু এ নিয়ে এখনও কোনও বিক্ষোভ যেমন হয়নি, তেমনি পড়েনি কোনও পোস্টারও।

 

Comments are closed.