শনিবার, অক্টোবর ১৯

নিজের ছেলে চলে গেছে , বৌমার ভবিষ্যৎ ভেবে ফের তার বিয়ে

কিরণ মান্না, পূর্ব মেদিনীপুর: আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে একমাত্র সন্তানের। তারপর থেকে গত কয়েক মাস ধরে মেয়ের মতোই আগলে রেখেছিলেন পুত্রবধূকে। ১৯ বছরের উমার ভবিষ্যতের কথা ভেবে সুপাত্র দেখে সোমবার তাঁর হাতেই উমাকে তুলে দিলেন ডেবরার বাসিন্দা মুকুন্দ মাইতি ও তাঁর স্ত্রী গায়ত্রী। স্থানীয় কালীবাড়িতে এই বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির ছিল গোটা গ্রাম।

একমাত্র ছেলে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পর অনেক সাধ করে তাঁর বিয়ে দিয়েছিলেন মুকুন্দবাবু। বউমা এসেছিল ঘরে। বিয়ের এক মাস পরে বউকে বাবা মায়ের কাছে রেখে মহীশূরে নিজের কর্মস্থলে ফেরত চলে গিয়েছিলেন অমিত মাইতি। সেখানে একটি সোনার দোকানে ম্যানেজারের কাজ করতেন তিনি। সেই থেকেই উমা ছিলেন বাড়জিশুয়া গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে শ্বশুর শাশুড়ির কাছে। তবে ২৩ বছরের অমিতের সঙ্গে উমার দেখা হয়নি আর। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বাড়ি ফেরার সময় ট্রেনের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন অমিত। ভুবনেশ্বরে ট্রেন থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।

একমাত্র ছেলের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি মুকুন্দবাবু ও তাঁর স্ত্রী গায়ত্রী। তারপর থেকে উমাই ছিল তাঁদের সহায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শোকের প্রাথমিক ধাক্কা কাটার পর পুত্রবধূর ভবিষ্যৎ ভাবিয়ে তোলে প্রৌঢ় দম্পতিকে। মাত্র ১৯ বছর বয়স উমার। কী ভাবে কাটবে তার সারা জীবন? এই ভাবনাই অস্থির করে তোলে তাঁদের। তারপর থেকেই কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার মতো পুত্রবধূর জন্য পাত্র দেখা শুরু করেন মুকুন্দবাবু। অবশেষে পাঁশকুড়ার শ্যামসুন্দরপুরের পাটনা গ্রামের বাসিন্দা স্বপন মাইতিকে পছন্দ হয়। স্বপন পেশায় স্কুল শিক্ষক ।

সোমবার পাঁশকুড়ার কালীমন্দিরে স্বপনের সঙ্গে বিয়ে হল উমার। মন্দিরে মালাবদলের পর বিয়ের অনুষ্ঠানও করেন মুকুন্দবাবু। অতিথিদের জন্য ছিল মাছ, মাংস, চিংড়ি পোস্ত থেকে দই মিষ্টি সবকিছুই। সমস্ত খরচই বহন করেন উমার প্রাক্তন শ্বশুরমশাই।

শুধু পুত্রবধূর বিয়েই দিলেন না তিনি, একই সঙ্গে তাঁর এমন ভাবনায় নাড়া দিয়ে গেলেন গোটা গ্রামকে।

প্রতিবেশীরা বলছেন, “বিয়ের নেমন্তন্ন তো অনেক খেয়েছি, কিন্তু এমন নেমন্তন্নের তৃপ্তিই আলাদা। একটা মেয়ের জীবনের প্রশ্ন।” সেখানেই সসম্মানে উতড়ে গেলেন মুকুন্দবাবু।

Comments are closed.