বুধবার, মার্চ ২০

বাতের ব্যথার মোক্ষম অস্ত্র ভারতীয় আয়ুর্বেদ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স বাড়লেই বাত নিয়ে নানা সমস্যা শুরু হয়ে যায়। ঠিকমতো ব্যবস্থা নিলে বাতের যন্ত্রণাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন বাতের ব্যথা নিরাময়ের সবচেয়ে সহজ এবং বিশ্বাসযোগ্য পন্থা ভারতের প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আয়ুর্বেদ গুরুত্ব হারালেও একবিংশ শতাব্দীর ব্যস্ত জীবনে আবারও নতুন ভাবে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে ভারতীয় যোগ ও আয়ুর্বেদ। সঠিক ভাবে আয়ুর্বেদ মেনে চললে যে কোনও রোগ বশে রাখা সম্ভব।

বাত বা আর্থ্রাইটিস আসলে কী?

বিভিন্ন হাড়ের সংযোগস্থল অর্থাৎ অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে বাত হয়। এতে ব্যথা হওয়া সঙ্গে সঙ্গে চলাফেরায়ও সমস্যা হতে শুরু করে। দু’টি হাড়ের অস্থিসন্ধিতে রয়েছে কার্টিলেজ। এই কার্টিলেজগুলির ক্রমাগত ক্ষয়ের ফলে বাতের সমস্যা শুরু হয়।

চিকিৎসাশাস্ত্রে বহু রকমের বাতের উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ধরনের বাত হল অস্টিও-আর্থ্রাইটিস এবং রিউমটয়েড (Rheumatoid) আর্থ্রাইটিস। তবে আমাদের দেশে বেশি হয় প্রথম ধরনের বাত অর্থাৎ অস্টিও-আর্থ্রাইটিস। এই ধরনের বাত সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হয়ে থাকে। রিউমটয়েড বাতটি হয় সাধারণত দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিসক্রিয় হলে। এই অতিসক্রিয়তা অস্থিসন্ধির কার্টিলেজে প্রভাব ফেলে। কার্টিলেজ নষ্ট হলে বাতের ব্যথা শুরু হয়।

আয়ুর্বেদ জানাচ্ছে, এই বাতের কারণ ‘বায়ু দোষ’। হজমের সমস্যা থাকলে বা সঠিক ভাবে পরিপাক না হলে দেহে জমা হতে থাকে আমাটক্সিন নামে একটি টক্সিন পদার্থ। মূলত দুর্বল জায়গাগুলিতেই বাসা বাঁধে এই টক্সিন, তার মধ্যে রয়েছে অস্থিসন্থি। কোনওভাবে অস্থিসন্ধি নড়বড়ে হয়ে গেলে সেখানেই জমা হতে থাকে এই টক্সিন, ফলে ব্যথা-সহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন এই ব্যথা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হল দৈনন্দিন খাবারে প্রয়োজনীয় বদল আনা, সেই সঙ্গে নিয়ম মেনে যোগাভ্যাস। আয়ুর্বেদের মূল কাজই হল দেহের সংবহন তন্ত্রকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। তাতে টক্সিন বা ক্ষতিকর উপাদান জমতে না দেওয়া। তার জন্য প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ জল খাওয়াটা প্রথম টোটকা।

দিনের শুরুতে এক কাপ উষ্ণ গরম জলে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে দেহে টক্সিন জমতে পারে না। মেথি ভেজানো জলও খুবই উপকারি। ব্যথার জায়গায় আয়ুর্বেদিক তেল (ক্যাস্টর অয়েল, তিল তেল) গরম করে লাগালেও উপকার পাওয়া যায়।

ভারতে অস্টিও-আর্থ্রাইটিসে আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। এর অন্যতম কারণ ঠিকমতো শারীরিক পরিশ্রম না করা, শরীরচর্চা না করা, দেহের ওজন বেড়ে যাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত খাওয়াদাওয়া। এই ধরনের বাতে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাঁটু।

বাত থেকে মুক্তির আরেকটা উপায় হল নিয়মিত যোগাভ্যাস। তাতে শ্বাস-প্রশ্বাস অনেক সচল থাকে। সঠিক সময়ে এবং পরিমিত ঘুমও অস্থিসন্ধিকে অনেক সক্রিয় রাখে। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুম এবং ভোরে উঠে শরীরচর্চা ওবেসিটির হাত থেকেও রেহাই দেয়।

 

Shares

Leave A Reply