সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

মুখ্যমন্ত্রীর হুমকিতেও জেলায় জেলায় উঠল না কর্মবিরতি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেও এখনও কর্মবিরতিতে অটল বর্ধমান ও বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তাররা। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে একইভাবে ধর্নায় সামিল জুনিয়র ডাক্তাররা।  হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে উদ্যোগী হয়েছেন সিনিয়র চিকিৎসকরা। তবে এত মানুষকে সুস্থ পরিষেবা দেওয়া তাঁদের ক্ষেত্রেও কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

দু’দিন বন্ধ থাকার পর আজ সকাল থেকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পরিষেবা চালু করার চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। তবে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে আউটডোর পরিষেবা। ফলে এ দিনও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে ফিরে যেতে হয় রোগীদের।

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থেকে ৫০ টি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে এ দিন রক্ত দেওয়ার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু আউটডোর না খোলা থাকায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের পরিজনদের জানিয়ে দেন আউটডোর না চালু হলে তাঁর পক্ষে রক্ত দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে শিশুগুলিকে নিয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের মা বাবাদের।

তবে জুনিয়র ডাক্তাররা আন্দোলনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ সকাল থেকেই চালু হয় আউটডোর পরিষেবা। হাসপাতালে সিনিয়র চিকিৎসকরাই রোগীদের স্বার্থে এ দিন আউটডোর পরিষেবা চালু করেন। আজ বিকেল চারটের মধ্যে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই হুঁশিয়ারিতে অবশ্য আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যেতে নারাজ জুনিয়র ডাক্তাররা। কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে তাই বিপুল পরিমাণ রোগীর চাপ সামলাতে রীতিমতো নাকাল হচ্ছেন হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তাররা। এতে ক্ষোভ বাড়ছে রোগীর পরিজনদের। মাঝেমধ্যেই তাঁদের বিক্ষোভে তেতে উঠছে হাসপাতাল চত্বর।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তার পরেও কর্মবিরতিতে অনড় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজের জুনিয়র ডাক্তাররাও। তবে জরুরি বিভাগের গেটের সামনে থেকে ধর্নামঞ্চ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিং এর সামনে। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান জুনিয়র ডাক্তাররা।

Comments are closed.