শনিবার, অক্টোবর ১৯

‘অপারেশন তুরিন আফরোজ’ কি রাজাকারদের হয়েই খেলা?

শরমীন সুলতানা

বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচারের সব চেয়ে দক্ষ এবং মেধাবী প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। যুদ্ধাপরাধ বিচারের দাবিতে একই সঙ্গে রাজপথে এবং সভা সমিতিতে এক আপসহীন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর তিনি। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পুরো বাংলাদেশে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকারী তুরিন ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক এবং দিল্লি স্কুল অফ ইকনমিক্স থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। বাংলাদেশি মেয়ে হয়ে জিতে এনেছেন ভারতের কমলা নেহরু পদক। এর পর আইন নিয়ে লেখাপড়া করেছেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে। অস্ট্রেলিয়া থেকে ডিস্টিংশন সহকারে অর্জন করেছেন বার  অ্যাট ল, এলএলএম এবং ডক্টরেট ডিগ্রি। গত ১৯ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশে তিনি আইন শিক্ষকতা এবং গবেষণা পেশায় নিয়োজিত।

কাদের মোল্লা রায় নিয়ে বিপর্যয়ের পর দেশ যখন তরুণ প্রজন্মের গণজাগরণে উত্তাল, ঠিক সেই সময় ২০১৩ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার তুরিন আফরোজকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ করে। ওই একই তারিখে তিনি তাঁর কর্মস্থলে অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে কাজে যোগদান করেন। প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যোগদানের পর থেকে আজ অবধি মোট ২৯টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয় এবং তার মধ্যে ২০টি মামলায় প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ আইনি যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন এবং মোট ৪৬ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেন। তুরিন আফরোজ হয়ে ওঠেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের চোখের মণি এবং বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য সেনানী।

প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ তাঁর কাজে যোগদানের পর থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বক্তৃতা-সেমিনার-জনসভা, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি, সাক্ষাৎকার, আলোচনাতে অংশগ্রহণ করে আসছেন। এ ছাড়া তিনি বেশ কয়েক বার বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার এর পক্ষে বিদেশি সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও সংসদীয় শুনানিতে (ইউরোপীয় পার্লামেন্ট শুনানি, সুইডিশ পার্লামেন্ট শুনানি, ফরাসি পার্লামেন্ট শুনানি, আর্জেন্টিনায় সেমিনার, হংকংয়ে সেমিনার, সিঙ্গাপুরে সেমিনার, জার্মানিতে সেমিনার ইত্যাদি) অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার এর পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরিতে বিরাট ভূমিকা রেখে আসছেন।

গত ১৮ই এপ্রিল ২০১৮ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হক নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি আবেদন করে। গত ২৪শে এপ্রিল ২০১৮ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল উক্ত আবেদনের বিষয়ে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের শুনানির উপর ভিত্তি করে মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করে এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে ঐ ব্যক্তিকে বারিধারা হতে ঐ দিনই গ্রেফতার করা হয়। অর্ডারটির তৃতীয় অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে যে ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করার শুনানিটি প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ-ই করেছেন।

গত ৭ই মে ২০১৮ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় মেজর মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের মামলা থেকে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে কোনও কারণ উল্লেখ না করে প্রত্যাহার করে নেয়। গত ৮ই মে ২০১৮ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সকল মামলা পরিচালনা থেকে বিরত ও প্রত্যাহার করে নেয়।

এর পর শুরু হয় ‘অপারেশন তুরিন আফরোজ’। গত ৭ই মে ২০১৮ তারিখ হতে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে তলব, ব্যাখ্যা দাবি বা কারণ দর্শানোর কোন নির্দেশ না দিয়ে মিডিয়াতে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ সম্পর্কে তদন্ত সংস্থা এবং প্রসিকিউশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ অভিযোগের পর অভিযোগ তুলে তাঁর ভাবমূর্তি তথা যুদ্ধাপরাধ বিচারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা শুরু করেন। গত ৯ মে শুরু হয় এই ‘অপারেশন তুরিন আফরোজ’। এ দিন ‘দৈনিক আমাদের সময়’-এর একটি খবর দিয়ে শুরু হয় এই অপারেশন, যার শিরোনাম ছিল ‘প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বরখাস্ত হতে পারেন’। তার পর মিডিয়ায় দেখা গেল এক বাম ঘরানার প্রসিকিউটরের অতিরিক্ত আস্ফালন। অভিযোগ করা হল, একটি অডিও নাকি পাওয়া গেছে সেখানে তুরিন আফরোজ অভিযুক্ত এক আসামির সঙ্গে ২৫ কোটি টাকার একটি লেনদেন করেছেন এবং তিনি আইন বহির্ভূত ভাবে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁর মতে, ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী তুরিন আফরোজের কোনও এক্তিয়ার নেই অভিযুক্ত আসামির সঙ্গে দেখা করার। আসুন সেই অভিযোগগুলোর একটু বিশ্লেষণ করে দেখা যাক—

১। ২৫ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে প্রথম যে অভিযোগটি ওঠে তা হচ্ছে তিনি নাকি অভিযুক্ত ওয়াহিদুল হকের সাথে ২৫ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন এবং এই সম্পর্কিত অডিও নাকি পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে এই অডিওর রেকর্ডিং এর ঠিক কোন জায়গায় বা কোন মিনিটে বা কোন সেকেন্ডে এই ধরনের কথোপকথন রয়েছে যখন এই প্রশ্নটি করা হয়, তখন  কোনও উত্তরই পাওয়া যায় না। শুরু হয়ে যায় আমতা আমতা করে আবোলতাবোল অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা। এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য যে, ২৫ কোটি টাকা হচ্ছে এমন একটি অঙ্কের টাকা যেটি মাটিতে পুঁতে বা বিছানায় গুঁজে রাখা সম্ভব নয়। তা হলে সেই বিশাল অংকের টাকার লেনদেন সংক্রান্ত কাগজ হাজির করলেও ল্যাঠা চুকে যায়। কিন্তু সেই কাগজ ও আজ পর্যন্ত হাজির করতে দেখলাম না।

তাহলে সেই ২৫ কোটি টাকার লেনদেনের ভিত্তি কি ? উত্তর অজানা!

২। তুরিন আফরোজের অভিযুক্ত আসামির সাথে দেখা করার এক্তিয়ার নেই

সেই বিপ্লবী কমরেড আর একটি অভিযোগ তুলেছেন যে ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী তুরিন আফরোজের অভিযুক্ত আসামির সাথে দেখা করার এক্তিয়ার নেই। আসুন আমরা দেখি ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে এই বিষয়ে কী বলা আছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৮(২) ধারায় সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা আছে- “Any person appointed as a Prosecutor is competent to act as an Investigation Officer and the provisions relating to investigation shall apply to such Prosecutor.” অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে যদি কাউকে প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তবে তার এক জন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার দক্ষতা আছে বলেই ধরে নেওয়া হবে এবং ঐ আইনে তদন্ত করার ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া বর্ণিত আছে সবই ঐ প্রসিকিউটরের ক্ষেত্রেও প্রয়োজ্য হবে।

যে হেতু প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে ২০১৩ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক জন প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, তাই ট্রাইবুনালের আইন অনুযায়ী তিনি তদন্ত করবার দক্ষতা রাখেন। সুতরাং তদন্ত সংস্থায় নথিভুক্ত যে কোনও অভিযুক্ত আসামির ব্যাপারে তদন্ত করবার এক্তিয়ার প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের আছে। অতএব, যারা প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের তদন্ত করবার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা আইন না জেনেই প্রশ্ন তোলেন।

এ বারে আসি পরের প্রশ্নে। তদন্তকালে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ কোনো অভিযুক্ত আসামির সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে দেখা করতে বা কথা বলতে পারেন কি না। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৮(৪) ধারা প্রযোজ্য হবে। যেখানে বলা আছে- “Any Investigation Officer making an investigation under this Act may examine orally any person who appears to be acquainted with the facts and circumstances of the case.” অর্থাৎ, এক জন তদন্ত কর্মকর্তা (এ ক্ষেত্রে এক জন প্রসিকিউটর) তার তদন্তকালীন সময়ে অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনাবলীর ব্যাপারে ওয়াকিবহাল যে কোন ব্যক্তিকে মৌখিক ভাবে কথাবার্তা বলে ঘটনার সত্যতা যাচাই বাছাই করবার অধিকার রাখেন।

তা হলে, প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ কোন অভিযুক্ত আসামির ব্যাপারে তদন্তকালীন সময়ে তার সাথে মৌখিক কথাবার্তা বলার মাধ্যমে অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনাবলী সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতেই পারেন। আইন তাকে এই ক্ষমতা দিয়েছে। বিষয়টি কোনও ভাবেই অনৈতিক বলে বিবেচ্য হতে পারে না।

এ তো গেল আইনের ব্যাখ্যা। এবার আরও একটি দালিলিক প্রমাণ আমরা দেখি। https://www.youtube.com/watch?v=Hau8zfgDlIQ&feature=youtu.be এই লিঙ্কে গেলে আমরা দেখতে পাবো যে সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ২০১১সালে RTV তে এক টক শো তে বলছেন, “(ট্রাইব্যুনাল) আইনে প্রসিকিউটরদের তদন্তের সুযোগ আছে এবং আমরা(প্রসিকিউটররা) সেই সুযোগ নিচ্ছি”।তা হলে খুব সহজাত ভাবে প্রশ্ন জাগে মালুম সাহেবের ভাষ্যমতেও যদি প্রসিকিউটরদের তদন্তের এক্তিয়ার থাকে এবং প্রসিকিউটররা যদি তা প্রয়োগ করে থাকেন, তা হলে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের সময়ে এই গাত্রদাহ কেন ? আর যদি  ধরে নিই, ট্রাইব্যুনাল আইনে সেই সুযোগ নেই‌, তা হলে কি প্রসিকিটর মালুম সাহেব জাতির সামনে ট্রাইব্যুনাল আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিলেন? তার ভাষ্যমতে যে সকল প্রসিকিউটর ইতিপূর্বে এই তদন্তের সুযোগ নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কি কোন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ? মজার বিষয় হচ্ছে সেই অতি বাম প্রসিকিউটরের কাছ থেকে আজ পর্যন্ত আমরা এই বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা পাই নি ।

৩। তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ

সেই বামপন্থী প্রসিকিউটরের আরও একটি অভিযোগ হচ্ছে তুরিন আফরোজের তদন্ত প্রক্রিয়া আইনসিদ্ধ হয়নি। অর্থাৎ আইনে যে ভাবে বলা আছে তদন্ত প্রক্রিয়া সেই মোতাবেক হয়নি। মজার ব্যাপার হল, ট্রাইব্যুনাল আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা তন্ন তন্ন করে ঘেঁটে দেখলাম কোথাও তদন্ত প্রক্রিয়া কী হবে সেটি নিয়ে একটি লাইনও উল্লেখ করা নেই। তার মানে দাঁড়ায়, এই ট্রাইব্যুনাল আইনে এক জন  প্রসিকিউটর (যিনি কিনা তদন্তকারী কর্মকর্তাও বটে)-কে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে যে তিনি তার বিজ্ঞতা, প্রাজ্ঞতা, মেধা ও মনন দিয়ে সুবিধাজনক উপায়ে তদন্ত করতে পারবেন।

তা হলে প্রশ্ন জাগে যেখানে ট্রাইব্যুনাল আইনে তদন্ত প্রক্রিয়া বিষয়ে কোন কথাই উল্লেখ করা নেই সেখানে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের তদন্ত প্রক্রিয়া বেআইনি হয় কী করে?

যখন পুরো বিষয়টি আমাকে বেশ ভাবিয়ে তুলছিল , কোন কুল কিনারা পাচ্ছিলাম না, তখন হঠাৎ মনে হল, আচ্ছা এই তুরিন আফরোজ তো সেই তুরিন আফরোজ যিনি কি না ট্রাইব্যুনালে ২০টির মতো মামলা পরিচালনা করেছেন। যার পরিচালিত মামলাতে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ৪৬। যার একটি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া বিতর্কিত করতে পারলে তার করা পূর্ববর্তী সমস্ত মামলা বিতর্কিত করে তোলা যাবে। কুখ্যাত রাজাকার মতিউর রহমান নিজামী, আলি আহসান মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, গোলাম আজম, মীর কাশেম, আশরাফুজ্জামান, চৌধুরী মইনুদ্দিন, কায়সার, কামরুজ্জামানদের শাস্তির রায়কেও বিতর্কিত করে পুরো যুদ্ধাপরাধ বিচারটিকেই সন্দেহজনক করে তোলা যায়। আওয়ামী লিগ সরকারের গৌরবের অর্জনকে ধূলিসাৎ করে ফেলা যায়। তা হলে কি যে কাজটি এত দিন জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের লবিস্টেরা করতে চেয়েছিল, সেই কাজটি এখন করে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনালের ভিতরের সেই প্রসিকিউটর? আসলে জামাতে ইসলামির হয়েই কাজ করছেন তিনি?

(লেখিকা সিডনি আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। এই লেখাটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাঁর মতামত ব্যক্তিগত।)

Leave A Reply