সোমবার, এপ্রিল ২২

দিদিই তো সব, প্রার্থী হয়ে কী করব : কেষ্টদা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম : তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “আপনার কখনও প্রার্থী হতে ইচ্ছে করে না?”

হেসে ফেললেন জেলার অবিসংবাদী নেতা। “প্রার্থী হয়ে কী লাভ? এখানে মুখ্যমন্ত্রী একাই প্রার্থী। তিনি আমার সঙ্গে আছেন। সেখানে কেন হঠাৎ প্রার্থী হতে যাব? ” এরপর ছুড়ে দিলেন পাল্টা প্রশ্ন, “জেলায় কি কাজে কোনও খামতি রেখেছি?”

তিনি কেষ্ট দা। জেলার নেতা। কিন্তু ক্যারিশমায় অনেক সময় ছাপিয়ে যান রাজ্য স্তরের অনেক নেতাকেও। প্রার্থী হননি কখনও। কিন্তু ভোটের বাজারে তাঁর ব্যস্ততা যেন ছাপিয়ে গিয়েছে যে কোনও প্রার্থীর ব্যস্ততাকে।

ভোর থেকে রাত, দলের কর্মী সভা, প্রার্থীর প্রচার সভা, নেতৃত্বের বৈঠক, মিছিল সবকিছুকে এক তারে বেঁধে রাখাই যেন তাঁর কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। দলের প্রার্থীর হয়ে জেলার এ মাথা থেকে ও মাথা চষে বেড়ান তিনি। অনুগত কর্মীদের স্নেহের প্রশ্রয়, কেউ বেয়াড়াপনা করলে তার জন্য স্নেহ মিশ্রিত শাসন, এতটুকুও যেন ফাঁক পড়ার যো নেই কোথাও। এই সব মিলিয়ে বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি হলেও রাজ্য রাজনীতিতেও রীতিমতো হাইপ্রোফাইল অনুব্রত মণ্ডল। তবে নিজেকে জেলার নেতা ভেবেই সচ্ছন্দ তিনি। তাঁর কথায়, “ আমি বাবা রাজ্যের নয়, বীরভূম জেলার নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মন থেকে ভালবাসি, তিনি যখন যা নির্দেশ দেন, পালন করি।”

অনুব্রত মণ্ডল মুখ খুললেই খবর। কয়েক বছর ধরে সাংবাদিক মহলে এমন একটা মিথের ভিতও বেশ শক্তপোক্ত। হবে না ই কেন? গত দু দশক ধরে বীরভূম জেলায় পালাবদলের এই অন্যতম কাণ্ডারীর নানা মন্তব্য যে একাধিকবার ঝড় তুলেছে গোটা বাংলার রাজনীতিতে। বিরোধীদের শায়েস্তা করতে কখনও পাচনের বাড়ি দেওয়ার দাওয়াই দিয়েছেন তিনি। কখনও আবার তাঁদের গুড় বাতাসা বা নকুলদানা খাওয়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন কর্মীদের। সেই নির্দেশ কিন্তু থমকে যায়নি জেলার অন্দরে। গুড়-বাতাসা, নকুলদানা দুটোই সুপারহিট হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এতে অবশ্য বেশ খুশিই তিনি।

“আমি গুড় বাতাসা খাওয়াতে বলায় ছোট ব্যবসায়ীদের লাভ হয়েছিল খুব। গুড় বাতাসার বিক্রি বেড়ে গিয়েছিল। আবার শুনছি নকুলদানার বিক্রিও বেড়ে গিয়েছে। ভালই তো। ওদের যদি একটু লাভ হয়।”

ভোট থাকুক বা না থাকুক বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মসূচি থাকে বছরভর। আর তাঁর ব্যস্ততাও থাকে তুঙ্গে। যদিও ভোট এলে অন্য মাত্রা পায় তা। কারণ প্রচারই হোক আর পথসভা, জেলা ভিত্তিক যে কোনও কর্মসূচিতে মূল আকর্ষণ তিনিই।  নিজেও স্বীকার করলেন সে কথা, ,”আমার সারা বছর ধরেই ছোট বড় দলীয় কর্মসূচি থাকে। ভোট এলে সেই কর্মসূচির সংখ্যা বাড়ে। ফলে ব্যস্ততাও বাড়ে।”

এতে কতটা বদলে যায় লাইফ স্টাইল?

জবাব, “আমার লাইফে স্টাইল বলে কিছু নেই। মোটা চালের ভাত পেলেই হল। আর মোটা কাপড়। ভোটের ব্যস্ততা যতই থাকুক,ওটুকু জুটে যায়।”

Shares

Comments are closed.