শনিবার, মে ২৫

“কোলের বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাবে ও ?” নিহত সত্যজিতের স্ত্রীকে প্রার্থী করে বললেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া :  জল্পনা চলছিলই। সে খবরও করছিল দ্য ওয়াল। জল্পনা সত্যি করেই আজ রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে কৃষ্ণগঞ্জের নিহত বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী রূপালী বিশ্বাসের নাম ঘোষণা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বললেন, “কিছুদিন আগে নদিয়ায় আমাদের বিধায়ক সত্যজিৎকে খুন করা হয়েছে। ওর বউয়ের বয়স এখন ২৫ বছর। জাস্ট ২৫ বছর। প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে। একটা কোলের বাচ্চাকে নিয়ে কোথায় যাবে ও?” একই সঙ্গে নেত্রী স্মরণ করিয়ে দিলেন, “ওরা মতুয়া সম্প্রদায়ের লোক।”

৯ ফেব্রুয়ারি কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত ফুলবাড়ি এলাকায়  বাড়ির কাছেই তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে (৪০) লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। হাঁসখালি ব্লকের বগুলার ফুলবাড়ি এলাকায় বড় বাজেটের একটি সরস্বতী পুজোর উদ্বোধন করতে গেছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান চলার সময় আচমকাই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। কানের পিছনে গুলি লাগে বিধায়কের। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে শক্তিনগর হাসপাতালে নিয়ে যান তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা কিন্তু বাঁচানো যায়নি তাঁকে।

এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তোলে শাসকদল। এফআইআরে নাম ছিল মুকুল রায়েরও। পরে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিন নেন বিজেপি নেতা।

বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের যথেষ্ট প্রাধান্য। সত্যজিৎও ছিলেন এই সম্প্রদায়েরই নেতা। বিধায়কের মৃত্যুর পর ফাঁকা জমিতে বিজেপি যাতে কোনওভাবেই মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের দখল নিতে না পারে তার জন্য শুরু থেকেই সচেষ্ট তৃণমূল নেতৃত্ব। পাশাপাশি এই অকাল মৃত্যুর সেন্টিমেন্টকে ভোটবাক্স পর্যন্ত নিয়ে আসার তাগিদও প্রথম থেকেই স্পষ্ট। তাই এ বার লোকসভায় যে তাঁর স্ত্রী রূপালীকেই টিকিট দেওয়া হবে তা একরকম নিশ্চিত ছিল। নেত্রীর ঘোষণায় শিলমোহর পড়ল তাতে।

লোকসভায় প্রার্থী হচ্ছেন এই খবর আজই পেয়েছেন বলে দাবি রূপালীর। জানান, রাজ্যের মন্ত্রী রত্না ঘোষ কর আজই তাঁকে এই খবর জানিয়েছেন। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে এখন দলের কর্মী সমর্থকদের ঢল রূপালীর বাড়িতে। সাদামাটা ঘরণী ছিলেন। রাতারাতি প্রচারের আলোয় এসে কিছুটা যেন হতচকিত। বললেন, “কবে থেকে কাজ শুরু করব জানি না। দল যা নির্দেশ দেবে সেইমতো চলব।” তবে স্বামীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠতেই শক্ত চোয়াল। বললেন, “ভোটে জিতলে অপরাধীরা যাতে কোনও ভাবেই ছাড়া না পায় সেই ব্যবস্থা করাই হবে প্রথম কাজ।”

২০১৬ সালে বিয়ে হয়েছিল রূপালীর। বছর তিনেকের বিবাহিত জীবন। কোলে দেড়বছরের সন্তান। তাকে বড় করার সমস্ত দায়িত্ব একার কাঁধে। এ সবের সঙ্গেই অবশ্য এখন এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন ২৫ বছরের রূপালী। মমতা এ দিন সাংবাদিক বৈঠকেও বলেছেন, নিহত সত্যজিত মতুয়া সমাজের মুখ। সেই সঙ্গে কোলে বাচ্চা নিয়ে যদি ২৫ বছরের এক সদ্য স্বামী হারা তরুণী ভোটের ময়দানে নামেন, সহানুভূতি তো পাবেনই। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুটোকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহার করতে চেয়েছেন।

Shares

Comments are closed.