মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

পুকুর থেকে উদ্ধার শিক্ষিকার দেহ, দুই মেয়ের উপর চড়াও পড়শিরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর : মাকে খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল দুই মেয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয় রায়গঞ্জের দেবীনগর রামকৃষ্ণপল্লীতে। শনিবার সকালে এলাকার একটি পুকুর থেকে কল্পনা দে সরকার রায় (৫৫) নামে ওই স্কুলশিক্ষিকার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এরপরেই উত্তেজিত বাসিন্দারা বাড়িতে ঢুকে তাঁর দুই মেয়েকে মারধর শুরু করেন। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ পৌঁছে দু’জনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।  ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, রায়গঞ্জের পূর্ব কলেজপাড়া প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা কল্পনাদেবী মহা অষ্টমীর দিন থেকে নিখোঁজ ছিলেন। কিন্তু তাঁর দুই মেয়ে কাউকে কিছু জানায়নি বলে অভিযোগ। রায়গঞ্জ থানায় কোনও মিসিং ডায়েরিও করেনি। শনিবার সকালে গোয়ালপাড়ার পাতপুকুরে কল্পনাদেবীর মৃতদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দুই মেয়ে ওই শিক্ষিকার উপর চরম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করত। কল্পনাদেবী স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার জন্য কাউন্সিলর তাঁকে পরামর্শও দিয়েছিলেন। কিন্তু মা হয়ে মেয়েদের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি তিনি।

কল্পনাদেবীর পড়শিরা জানান, পুজোর সময় থেকে আবার অশান্তি শুরু হয়। এরপর গত ৬ অক্টোবর, অষ্টমীর দিন থেকে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। শনিবার তাঁর দেহ উদ্ধারের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ। তাঁর দুই মেয়ের উপর চড়াও হন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। দুই মেয়েকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। দুই মেয়ের মধ্যে একজন নাবালিকা। দুজনেই জানায়, তাদের মা মামাবাড়িতে গেছে বলে ভেবেছিল তারা। কারণ মাঝেমধ্যেই কাউকে না বলে মামারবাড়িতে যেত তাদের মা। অশান্তির কথাও অস্বীকার করেছে তারা।

গোটা বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

 

পড়ুন দ্য ওয়ালের পুজো ম্যাগাজিনের বিশেষ লেখা

তাহু ফল, ঐশ-রোষ ও পিগমি সমাজ

Comments are closed.