মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

মালদায় পঞ্চায়েতের তৃণমূল কর্মাধ্যক্ষকে কোপালো তৃণমূলেরই সদস্য

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা : পঞ্চায়েতে নিজেরই দলের এক সদস্যকে ভোজালি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলেরই অন্য এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। দুজনেই কালিয়াচক থানার আলিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। বুধবার রাতে হামলার পর গুরুতর জখম ফরিদুল ইসলাম ওরফে ফিটুকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য মাইদুর শেখ  পলাতক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বছর ৩২ এর ফরিদুল ওরফে ফিটু জোৎপরম গ্রামের বাসিন্দা। আলীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত মাইদুর শেখও ওই পঞ্চায়েতেরই তৃণমূলের সদস্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে পঞ্চায়েত অফিস সংলগ্ন বাজার এলাকায় দুই পঞ্চায়েত সদস্যদের মাঝে বিবাদ শুরু হয়। পঞ্চায়েতের কাজ নিয়ে তর্কবিতর্ক চলছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তার থেকেই হাতাহাতি। অভিযোগ, এ সময় ফরিদুলকে এলোপাথাড়ি ভোজালি দিয়ে কোপাতে শুরু করে মাইদুর শেখ ও তার দলবল। চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে আসতেই দলবল নিয়ে পালিয়ে যায় মাইদুর। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি  আক্রান্ত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যকে সিলামপুর গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাঁর গলায়, মাথায়, বুকে ও পেটে গুরুতর আঘাত থাকায় চিকিৎসকরা তাঁকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

১৭ আসনের আলীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে গত নির্বাচনে তৃণমূল ১৪ টি, বিজেপি ২ টি ও কংগ্রেস ১ টি আসন পায়। তবে পরে সব সদস্যই তৃণমূলে চলে যাওয়ায় বিরোধী শূন্য পঞ্চায়েত গঠন করে তৃণমূল। দশ জন সদস্যের সম্মতিতে প্রধান হন রুমি বিবি। এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তারপর থেকেই দুটি গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে যান পঞ্চায়েত সদস্যরা। শুরু হয় দ্বন্দ্ব। তবে এমন ভাবে সেই লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ হবে ভাবতে পারছেন না ওই পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ।

পঞ্চায়েতের কাজ নিয়েই গন্ডগোল বলেই মনে করছেন এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব। পঞ্চায়েত প্রধান রুমি বিবির স্বামী, অঞ্চল তৃণমূল নেতা এহেসারুল হক বলেন, ‘‘পঞ্চায়েতের সমস্ত সদস্যের সম্মতিতে আমাদের এলাকায় কাজ হয়। দলেরই সদস্যকে কেন অন্য সদস্য কোপালো তা বুঝতে পারছি না। পঞ্চায়েতের কাজ নিয়ে গন্ডগোল হওয়ার কোনও কারণ নেই। সব সংসদেই কাজ হচ্ছে। আমি বিষয়টি দলের জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’’

ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় যায় কালিয়াচক থানার পুলিশ। অভিযুক্ত ওই পঞ্চায়েত সদস্যের খোঁজে তল্লাশি চলছে থানার আধিকারিকরা  জানিয়েছেন।

Comments are closed.