শুক্রবার, আগস্ট ২৩

স্বাধীনতা দিবস আর রাখির জোড়া সেলিব্রেশন, ঘুম গিয়েছে অনুভব হোমের আবাসিকদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : ট্রেনের টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল ওদের কাউকে। কেউ আবার জীবনের আলো দেখেছেন পাচার হয়ে অন্ধকার জগতে তলিয়ে যেতে যেতে। বর্তমানে ওদের ঠিকানা জলপাইগুড়ির অনুভব হোম। সেখানেই কর্তৃপক্ষের স্নেহচ্ছায়ায় বেড়ে উঠছে তারা। সারা বছর ধরে হোমে ওঁদের গতে বাঁধা জীবন। পড়াশোনা করা, হাতের কাজ শেখা। তাই প্রহর গোনে ওরা, স্বাধীনতা দিবসের, রাখি বন্ধনের মতো উৎসবের জন্য।

এই সব দিনগুলিতেই বাইরের মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ। নিজেদের প্রমাণ করার পালা। স্বাধীনতা দিবস ও রাখিবন্ধনের জোড়া সেলিব্রেশন ঘিরে তাই সাজো সাজো রব এখন জলপাইগুড়ির অনুভব হোমে।

কারও হয়তো পরিবার আছে কিন্তু দেখা করতে আসে না কেউ। কেউ আবার বলতেই পারে না বাড়ি কোথায়। কিন্তু রাখি বন্ধনের দিনে কেউ রাখি পরিয়ে দেয় দাদা বা ভাই হয়ে আসা কারও হাতে। কেউ আবার দিদি বা বোনের হাত থেকে রাখি পরে। ঠান্ডা হয় স্বজন সান্নিধ্যের জন্য তৃষিত মন। হোমেরই এক নাবালিকার কথায়, “আমাদের নিজেদের কেউ নেই তো কী হয়েছে, আমরা যাদের হাতে রাখি পরাই তারাই আমাদের ভাই-দাদা।”

এ বারে রাখি পুর্ণিমা ও স্বাধীনতা দিবস একই দিনে। তারই জোরদার প্রস্তুতি চলছে জলপাইগুড়ি অনুভব হোমে। হোমের দিদিরা এনে দিয়েছে পুঁতি, সুতো, স্পঞ্জ আরও কতকিছু। তাই নাওয়া খাওয়া ভুলে এখন রাখি তৈরি আর নাচ গানের রিহার্সালে মেতেছে আবাসিকরা।

অনুভব হোমের সুপার ডালিয়া মিত্র জানান, এখানে বছরভরের অপেক্ষা থাকে এই দিনগুলির জন্য। নিজের হাতে রাখি বানিয়ে পরিয়ে দেবে দাদা, ভাইদের হাতে। তিনি বলেন, “আমরা ওদের প্রচুর পরিমাণে রাখি বানানোর সরঞ্জাম এনে দিয়েছি। ওরা এখন নাওয়া খাওয়া ভুলে তাই নিয়ে মেতে আছে। আমাদের মোট ৪০ জন আবাসিকের মধ্যে ৪ জন স্বাধীনতা দিবসের দিন জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দফতরে অনুষ্ঠানে নাচ করবে। আমাদের হোমেও দিনভর জমজমাট অনুষ্ঠান হবে। তাই জোর রিহার্সাল চলছে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অনেক অতিথিদের।”

 

Comments are closed.