শুক্রবার, জুলাই ১৯

আলাদা উত্তরপত্র নয়, প্রশ্নপত্রেই উত্তর, সামনের উচ্চমাধ্যমিক থেকেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো :  প্রশ্নপত্র দেখে উত্তরপত্রে উত্তর লেখার দিন শেষ হল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের। আগামী বছর থেকে প্রশ্নপত্রের নির্ধারিত অংশেই উত্তর লিখবে তারা। তারপর তা জমা দেবে পরীক্ষকের হাতে। মূলত হোয়াটস অ্যাপে প্রশ্নফাঁসের মোকাবিলা করতেই নতুন দাওয়াই বলে সংসদ সূত্রে খবর।

এতদিন দুটি ভাগে নেওয়া হত পরীক্ষা। পার্ট ওয়ানে অল্প নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর প্রশ্নপত্রে লিখেই জমা দিতে হত। পার্ট-টু তে বেশি নম্বরের বড় প্রশ্নের উত্তর লিখতে হত আলাদা উত্তরপত্রে। তারপর দুটি বেঁধে জমা দিতে হত। এ বার বদলে দেওয়া হচ্ছে এই পুরো পদ্ধতিটাই।

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস বলেন, পরীক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের স্বার্থেই এ বার থেকে কোয়েশ্চেন কাম অ্যানসার বুকলেট চালু করছেন তাঁরা। এখন থেকে ছোট হোক আর বড়, সমস্ত প্রশ্নের উত্তরই এই বুকলেটে লিখে জমা দেবে পরীক্ষার্থীরা। ছাত্রছাত্রীদের কথা চিন্তা করেই এই নতুন ব্যবস্থা।

গত কয়েক বছর ধরেই হোয়াটস অ্যাপে প্রশ্ন ফাঁসের সমস্যায় জর্জরিত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এ বছরও প্রায় প্রত্যেক দিন পরীক্ষা শুরু হতে না হতেই বিভিন্ন জেলা থেকে প্রশ্ন ফাঁসের খবর এসে পৌঁছেছে সংসদের দফতরে। পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা তো বটেই, যাঁরা গার্ড দিচ্ছেন, সেইসব শিক্ষক শিক্ষিকা, এমন কী সংসদের পরিদর্শকদের মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তারই ফাঁক দিয়েই হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা নজরে এসেছে বারবার। মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে তা ছড়িয়ে দেওয়ার এমন ঘটনায় বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় চাপে পড়ে যায় সংসদ। এই সমস্যা থেকে বের হতেই নতুন করে পথ খোঁজা শুরু হয়।

মহুয়া দাসের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় এই অসাধু পদ্ধতি অবলম্বন একরকম অসম্ভব। তিনি বলেন, “এই বুকলেটে একটি প্রশ্নের পর, তার উত্তর লেখার জন্য প্রায় তিন-চার পাতা করে খালি জায়গা রাখা থাকছে। তারপর থাকবে পরের প্রশ্ন। কাজেই পরীক্ষকদের নজর এড়িয়ে এতগুলি পাতা উল্টে প্রশ্নের ছবি তুলে হোয়াটস অ্যাপে ছড়িয়ে দেওয়া একরকম অসম্ভব। এতদিন, ছোট প্রশ্নপত্রের মধ্যে পরপর প্রশ্ন থাকত। তাই কোনও না কোনও ভাবে নজর এড়িয়ে কেউ না কেউ তার ছবি তুলে বাইরে পাঠানোর সাহস পেত।”

তিনি আরও বলেন, পার্ট ওয়ান ও পার্ট টু পরীক্ষার দুটি ভাগের উত্তরপত্র একসঙ্গে বেঁধে, তবেই তা জমা দিতে হত পরীক্ষার্থীদের। অনেক সময় এই বাঁধন খুলে গিয়ে দুটি উত্তরপত্র আলাদা হয়ে যেত। মূল্যায়নের জন্য তা পৌঁছোত না পরীক্ষকের কাছে। এ বার নতুন ব্যবস্থায় এমন আশঙ্কাও আর থাকছে না বলে জানান তিনি।

কোয়েশ্চেন কাম অ্যানসার বুকলেট  ‘ফুলপ্রুফ’ সংসদ দাবি করলেও শিক্ষামহলের সমস্ত অংশ কিন্তু এখনই সেই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, পরীক্ষিত না হলে কোনও ব্যবস্থাকেই এমন সার্টিফিকেট দেওয়া যায় না। সঙ্গে মোবাইল ফোন নিয়ে যদি কেউ পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকে, এবং অসাধু উপায় নেওয়ার মানসিকতা থাকে, তবে প্রশ্নের ছবি তুলে তা বাইরে পাঠাতে কতক্ষণ ? তবে প্রশ্নগুলো পরপর না থাকায় কাজটা কিছুটা কঠিন বলে মনে করছেন তাঁরাও।

Comments are closed.