বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

চোখে চোখে কথা বলো! বাঘের চোখে চোখ রেখে ঘণ্টা দেড়েক…তারপর?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘তুমি যে এ ঘরে কে তা জানত!’

তোশাখানার বন্ধ ঘরে মুখোমুখি ‘বাঘ মামা’র দেখা পেয়ে গুপি-বাঘার যে কেমন নাস্তানাবুদ দশা হয়েছিল সেটা তো সবারই জানা। তবে সেটা ছিল ফিল্মি দুনিয়া, ধরুন বাস্তবেই যদি একটা আস্ত বাঘের সামনে পড়ে যান, তাহলে কী হবে কখনও ভেবেছেন? চিড়িয়াখানার বন্দি বাঘ নয়, জঙ্গলের পথে দুলকিচালে ধেয়ে আসা ডোরাকাটা দক্ষিণ রায়। পিঠটান দেবেন? তাতেও নিস্তার নেই। কথায় বলে হিংস্র শ্বাপদের চোখে একটানা চোখ রাখলে, তারা নাকি আর আক্রমণের কোনও চেষ্টাই করে না।তবে সেটা করতে পারে ক’জন? তার জন্য চাই স্নায়ুর জোর। আর সেটাই করে দেখিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের এক মহিলা বনকর্মী। বাঘের চোখে চোখ রেখে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক অবিচল, নিষ্পলক দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, আর তাতেই হার মানে বাঘ। মহিলা বনকর্মীর এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছে গোটা দেশ।

ঘটনাটা মধ্যপ্রদেশের হোসাঙ্গাবাদ এলাকার সাতপুরা টাইগার রিজার্ভের। সেখানেই কর্মরত ওই মহিলা বনকর্মী। বনের পথে চলতে গিয়ে তিনি বাঘের মুখোমুখি পড়ে যান। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই পুরুষ সহকর্মী। মুখোমুখি মানুষ আর বাঘ, চারপাশে জঙ্গল। বনকর্মীর কথায়,  বাঘ-মানুষের ব্যবধান ছিল আন্দাজ ৭-১০ মিটার। বাঘের দেখা পেয়ে ভয়ে সিঁটিয়ে যান সকলেই। বাকি দুই সহকর্মী যখন ভয় ও আতঙ্কে থরহরি কম্প, তখনই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন মহিলা। সামান্য গা ঝাড়া দিয়ে, হাত-পা অসাড় হয়ে আসার আগেই সহকর্মীদের জোরালো গলায় নির্দেশ দেন, এক পাও না নড়তে। কারণ নড়েছো কি মরেছো! বরং দৃষ্টি সোজা রেখে ঠায় বাঘের দিকে তাকিয়ে থাকতে।

এ দিকে বাঘ তখন মুখের সামনে জলজ্যান্ত শিকার দেখে রীতিমতো তর্জন গর্জন করছে। ভয় না পেয়ে মহিলা তখন বাঘের দিকেই চেয়ে থাকেন একটানা। সময় কাটতে থাকে হু হু করে। পরে তিনি জানান, প্রায় ঘণ্টা দেড়েক একই ভাবে সোজা দাঁড়িয়ে সামান্যতম নড়াচড়া না করেই তাঁরা বাঘের দিকে চেয়ে ছিলেন। বাঘও চেয়েছিল তাঁদের দিকেই। পরস্পরের চোখাচোখি শেষে ক্লান্ত হয়ে বাঘ আবার পিছু ফিরে তার ডেরায় ফিরে যায়। আর স্তস্তির নিঃশ্বাস ফেলে, ফিরে আসেন বনকর্মীরাও।

টাইগার রিজার্ভের এসডিও বলেছেন, মহিলা বনকর্মীর উপস্থিত বুদ্ধি আর সাহসই এ যাত্রায় তাঁদের প্রাণ রক্ষা করেছে।

 

Shares

Comments are closed.