সোমবার, অক্টোবর ১৪

বিহার-বন্যায় ১১ হাজার টাকা দিয়ে দিল ১১ বছরের মেয়ে! যেন ছোট্ট এক মা দুর্গা, দুর্গতিনাশিনী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা দেশ যখন উৎসবের মরসুমে গা ভাসিয়েছে, এই রাজ্যটি তখন জলমগ্ন। উৎসব দূরের কথা, রাজ্যজুড়ে বরং দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুমিছিল। বন্যার প্রকোপে ঘরছাড়া হাজারো মানুষ। ক্ষয়ক্ষতির সীমা নেই। আর তারই মধ্যে ১১ বছরের ছোট্ট মেয়েটি তাঁর পিগিব্যাঙ্ক ভেঙে এতদিন ধরে জমানো ১১ হাজার টাকা দিয়ে দিল বন্যা-দুর্গতদের জন্য! এ যেন খুদে মা দুগ্গার গল্প!

পাটনার বাসিন্দা, ১১ বছরের শ্রেয়া সিদ্দি নিজের চোখে দেখছে দুর্গতি। সে কয়েক তলা উঁচু ফ্ল্যাটে থাকলেও এবং তার জীবনযাপনে তেমন কোনও অসুবিধা না হলেও, রাজ্যের চেহারা তার অজানা নয়। খবরের কাগজে, টিভির পর্দায় নিয়মিত দেখছে, কী অবস্থায় আছেন মানুষগুলো! নিজের বাড়ির নীচে তাকালেও চোখে পড়ছে দুরবস্থা। তাই সে ঠিক করে, তার যেটুকু সাধ্য, তাই দিয়ে এই মানুষগুলোর পাশে থাকবে সে।

যেমন ভাবা তেমন কাজ। এত বছর ধরে জমানো নিজের পিগিব্যাঙ্কটা খুলে উপুড় করে শ্রেয়া। গুনেগেঁথে ১১ হাজার টাকা জড়ো হয়। তার পরে বাবা রাজীব রঞ্জনের সঙ্গে গিয়ে সে দেখা করে মাধেরপুরের সাংসদ পাপ্পু যাদবের সঙ্গে। পুরো টাকাটাই বন্যাত্রাণ তহবিলে দিয়ে দেয় শ্রেয়া।

শ্রেয়ার এই সিদ্ধান্তের কথা জেনে নেটিজেনরা আপ্লুত। তাঁরা বলছেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যেস ছোটবেলা থেকেই তৈরি হয়েছে এই মেয়েটির মধ্যে। এই দুর্গতির সময়ে যেন নিজেই মা দুগ্গা হয়ে উঠেছে ছোট্ট মেয়েটি।

তবে শ্রেয়া একা বা প্রথম নয়। গত বছরের বন্যার সময়ে তারই মতো করে ভেবেছিল আট বছরের অনুপ্রিয়াও। ক্লাস টু-এর সেই ছাত্রীর পিগিব্যাঙ্ক ঝেড়েঝুড়ে বেরিয়েছিল ৮ হাজার ২৪৬ টাকা। চার বছর ধরে সাইকেল কেনার জন্য টাকা জমাচ্ছিল সে। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতি দেখে তার মনে হয়েছিল, সাইকেল পরেও কেনা যাবে। এখন এই মানুষগুলোকে সাহায্য করা জরুরি। তাই তার সেই জমানো টাকার সঙ্গে আরও কিছু টাকা দিয়ে, মোট ৯ হাজার টাকা সে তুলে দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর বন্যাত্রাণ তহবিলে।

এ বছরের বিহার বন্যায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫০ ছুঁয়ে ফেলেছে। ২১ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রের খবর। ৪৫টি ত্রাণশিবির তৈরি করা হয়েছে সারা রাজ্যে। ৩২৪টি লঙ্গরখানা চালু হয়েছে। রাজ্যজুড়ে হাজারটি নৌকো পথে নেমেছে উদ্ধারকাজের জন্য। এরমধ্যে জলবাহিত অসুখের আশঙ্কাও বাড়ছে গোটা রাজ্যে।

Comments are closed.