রবিবার, এপ্রিল ২১

জুতো খুলিয়ে পা ধুইয়ে দেওয়া হচ্ছে মৌসমের, ছবি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক

বিবেক সিংহ, মালদা:  প্রচারে বেরিয়ে ছিলেন তিনি। তখনই এক আদিবাসী মহিলা নিজের বাড়ির উঠোনে বসিয়ে পায়ের জুতো খুলিয়ে পা ধুইয়ে দেন তাঁকে। মৌসম বেনজির নুরের এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে মালদার রাজনৈতিক মহলে। তবে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য ,এটা আদিবাসীদের প্রথা। এই সম্মান গ্রহণ না করলে তাঁদের অপমান করা হতো। মৌসম সেটা জানেন।

লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই কংগ্রেস ছেড়ে  তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন প্রয়াত বরকত গনিখান চৌধুরীর ভাগ্নি মৌসম বেনজির নুর৷  এ বার উত্তর মালদা থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন তিনি৷ এক দিকে গনিখান চৌধুরীর প্রতি এখানকার মানুষের আবেগ এবং অপর দিকে  নিজের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে  ভোটে জিততে মরিয়া মৌসম ৷  প্রতিদিনই নিজের লোকসভা কেন্দ্র চষে বেড়াচ্ছেন  মৌসম৷ বৃহস্পতিবার হবিবপুরের বামনগোলার জগদ্দলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলেন তিনি৷ আদিবাসী অধ্যুষিত ওই এলাকায় মৌসম পৌঁছতেই তাঁকে দেখার জন্য ভিড় উপচে পরে গোটা এলাকায়।

প্রচারের ফাঁকে এক আদিবাসী ভোটারের বাড়িতে ঢুকেছিলেন মৌসম৷ প্রার্থীকে হাতের কাছে পেয়ে আবেগে যেন ভেসে যায় গোটা পরিবার।তড়িঘড়ি বাড়ির উঠোনের চেয়ার পেতে তাঁকে বসতে দেন গৃহকর্ত্রী৷ এখানেই শেষ নয়, নিজের হাতে তৃণমূল প্রার্থীর জুতো খুলে দেন তিনি ৷ তারপর একটি কাঁসার থালার উপর মৌসমের পা রেখে নিজের হাতে ধুইয়ে দেন ৷

বিরোধীদের অভিযোগ, মৌসম নিজে এ নিয়ে আপত্তি করেননি ৷ বরং সেই অভ্যর্থনা সাদরে গ্রহণ করেছেন তিনি ।  আর পা ধুইয়ে দেওয়ার ছবি প্রকাশ হতেই শোরগোল পরে জেলার রাজনীতিতে। ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মু বলেন,  ‘‘যিনি ভোটে শুধু প্রার্থী নন, একাধিকবার জিতে সাংসদও ছিলেন। তিনিই তাঁর  এলাকার মানুষদের দিয়ে নিজের পা ধোয়াচ্ছেন । এখানকার সাধারণ মানুষের কোনও উন্নয়ন করেনি মৌসম, বরং সাধারণ মানুষকে দাসে পরিণত করেছে । বিজেপি ক্ষমতায় এলে এঁদের পা ধোয়া তো দূরের কথা এলাকায় পা রাখতেও দেবে না সাধারণ মানুষ ।’’

জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, এটা আদিবাসীদের অভ্যর্থনা জানানোর রীতি। তাই নিয়ে অযথা জল ঘোলা করা হচ্ছে। রাজ্য রাজনীতিতে বিনয়ী বলে সুনাম রয়েছে মৌসমের। তিনি যদি ওই রীতি পালনে বাধা দিতেন সেটাই ওই পরিবারের পক্ষে সম্মান হানিকর হত।

 

Shares

Comments are closed.