মঙ্গলবার, জুন ২৫

ক্ষোভ ছিল দলে, অর্পিতাকে জেতাতে দায়িত্ব বাঁটলেন বিপ্লব

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বালুরঘাট: বালুরঘাটে নাট্যকর্মী অর্পিতা ঘোষকে আবারও প্রার্থী করার পর প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন তিনি। কলকাতায় দলের কোর কমিটির বৈঠকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি বলেছিলেন, অর্পিতাকে অধিকাংশ কর্মী চান না। তাঁর পক্ষে অর্পিতাকে জেতানো সম্ভব নয়। কিন্তু নেত্রী সে কথা কানে তোলেননি। বরং অর্পিতার পক্ষ নিয়ে দলনেত্রীর সওয়ালে পিছু হটতে হয় দক্ষিণ দিনাজপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রকে।

পরবর্তীতে চাপে পড়ে তাঁকে অর্পিতার সঙ্গে প্রচারেও নামতে হয়েছে। কিন্তু দলের নেতা কর্মীদের একাংশের মধ্যে ফল্গু ধারার মতো বয়ে যাওয়া বিরূপ মনোভাব আঁচ করে ভোটের দায়িত্ব বিধানসভার ভিত্তিতে নেতা মন্ত্রীদের বন্টন করে মাস্টার স্ট্রোক খেলে দিলেন বিপ্লব। অন্তত দলের নেতাকর্মীদের একাংশ এমনটাই মনে করছেন। কেননা ফলাফল যদি বিরুদ্ধে যায় তার দায়ভার যাতে কোনওভাবেই তাঁর একার উপর না বর্তায় তারজন্যই এই পদক্ষেপ।  প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও বিচক্ষণ সাংগঠনিক বিপ্লবের উপর ভর করেই গত বিধানসভা, লোকসভা, পুরসভা ও পঞ্চায়েতে নির্বাচনে বৈতরণী পার হয়েছে দল। এ বার সেই যাদু অনেকটাই নিস্প্রভ।

রবিবার গঙ্গারামপুরে দলের রাজ্য সভাপতি সু্ব্রত বক্সির উপস্হিতিতে দক্ষিণ দিনাজপুরের ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী কৌশল থেকে প্রচারের পূর্ণ দায়িত্ব জেলা নেতাদের ভাগ করে দিয়েছেন বিপ্লব। ফলে দলের প্রার্থী অর্পিতাকে বিধানসভা ভিত্তিক কে কত ভোটের লিড দেবেন, তার গুরু দায়িত্বও বর্তেছে ওই নেতাদের উপরেই। তবে বিপ্লবের বক্তব্য, “অর্পিতা হারলে তার সব দায় আমার হবে। আর জিতলে ওই নেতারা কৃতিত্ব দাবি করবেন।” অতএব সরে থেকে নয়, দায়িত্বের জোয়াল কাঁধে নিয়ে লড়ে দেখানোর জন্য বিপ্লবের ওই চ্যালেঞ্জে এখন বেজায় ফাঁপড়ে পড়ে গিয়েছেন বালুরঘাটের প্রাক্তন মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী,  সুভাষ চাকি, তপনের বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদারা। এরা দলের বিপ্লব বিরোধী বলেই পরিচিত। কিন্তু দলের সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি ও কর্তৃত্বের বিচারে তাঁরা যে বিপ্লবের চেয়ে অনেক পিছিয়ে, তা দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী স্বীকার করেন।

বালুরঘাট লোকসভা আসনে দক্ষিণ দিনাজপুরের ৬টি বিধানসভা এবং উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার বিধানসভা রয়েছে। এ জেলার ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে বালুরঘাট বিধানসভায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী, ম্যাকিনটস বার্নের চেয়ারম্যান শঙ্কর চক্রবর্তী ও টাউন সভাপতি সুভাষ চাকিকে। তপন বিধানসভায় বাচ্চু হাঁসদাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কুমারগঞ্জ বিধানসভায় বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল, কৃষক নেতা মফিজুদ্দিন মিঁয়া, নিখিল সিংহরায়, শঙ্কর সরকার, রতন ঘোষ দায়িত্ব পেয়েছেন। গঙ্গারামপুর বিধানসভা দেখবেন পুরপ্রধান প্রশান্ত মিত্র, দলের নেতা বিপ্লব সেন, আমজাদ মণ্ডল, গৌতম দাস, রাজু দাস ও শঙ্কর মণ্ডল। কুশমণ্ডি বিধানসভায় বিদায়ী সাংসদ অর্পিতার আপ্তসহায়ক সুনির্মল বিশ্বাস, নেতা রীতেশ জোয়ারদার, রেখা রায়, কেশব জোশি, কালীপদ সরকার দায়িত্ব সামলাবেন। এবং হরিরামপুরে বুনিয়াদপুরের পুরপ্রধান অখিল বর্মন, এখানকার প্রাক্তন বিধায়ক সত্যেন রায়, জয়ন্ত কুণ্ডু,  সুভাষ ভাওয়ালের মতো নেতাদের ভোট প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিপ্লব বলেন, নেতৃবৃন্দকে বিধানসভা ভিত্তিক কাজের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ায় প্রচারে সুবিধা হবে। নেতারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্পিতার হয়ে কাজ করতে পারবেন। বিপ্লব মুখে ওই কথা বললেও আদতে তাঁকে ছাড়া যে অচল, তা মানছেন অনেকেই। বালুরঘাট থেকে তপন—কুমারগঞ্জ থেকে হরিরামপুর বিধানসভায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই নেতারা যে কেন্দ্র ভিত্তিক প্রচার ও ভোটের লিড নিয়ে চরম সংশয়ে, তা একান্ত আলাপচারিতায় গোপন করেননি বাচ্চু হাঁসদা, তোরাফ হোসেন মণ্ডলরা। অবশ্য মুখে বলছেন, “অর্পিতাকে জেতাতে এটা আমাদের কাছেও চ্যালেঞ্জ।”

তৃতীয় দফায় ২৩ এপ্রিল ভোট নেওয়া হবে বালুরঘাটে।

Comments are closed.