বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

ভোট ঘোষণা হতেই ফের অশান্ত চোপড়া, লাগাতার বোমাবাজি, চলল গুলিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : লোকসভা ভোট ঘোষণা হতেই তেতে উঠল চোপড়া। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘর্ষে যথেচ্ছ বোমাবাজিতে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। চলল গুলিও। সংঘর্ষে জখম হয়েছেন এক ভিলেজ পুলিশ সহ তিনজন।

আজ সকালে আনাজপাতি নিয়ে রামগঞ্জ বাজারে বিক্রি করতে যাওয়ার সময় তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা গুলি বোমা নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হয় বলে কংগ্রেসের অভিযোগ। ছড়রা গুলিতে জখম হন মহম্মদ সাহেব নামে এক কংগ্রেস কর্মী। গুলিবিদ্ধ হন কংগ্রেস কর্মী হিসেবে পরিচিত মহম্মদ আসিফও। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, থ্রি নট থ্রি পাইপগানের গুলি লেগেছে তাঁর ডান পায়ে। মহম্মদ আসিফ জানান, আজ সকাল থেকেই এলাকায় গুলি বোমা নিয়ে সন্ত্রাসে পরিবেশ তৈরি করেছিল তৃণমূল। বাজারে আনাজ বিক্রি করতে যাওয়ার সময় তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা মহম্মদ আজহারউদ্দিন বলেন, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে কংগ্রেস। তাঁদের সমর্থকরা লক্ষ্মীবাজারে লঙ্কা বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন, সে সময় তাঁদের উপর হামলা করে কংগ্রেসের আশ্রয়ে থাকা দুষ্কৃতীরা।

গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে বারবারই খবরের শিরোনাম হয়েছে চোপড়া। চোপড়ার রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর এই এলাকাগুলো কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। শাসকদলের কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষও প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা।

আজও সকালে সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয় রামগঞ্জ ও লক্ষীপুরের মাঝে ডাঙ্গাপাড়ায়। প্রকাশ্য রাস্তায় পিস্তল নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় বেশ কয়েকজনকে। গুলিবিদ্ধ দুজনকে প্রথমে দলুয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থা আয়ত্বে আনতে  ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দুদলের সংঘর্ষের মাঝে পরে আহত হন মাসুদ আলম নামে এক ভিলেজ পুলিশও। তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, আদালতে একটি নথি পৌঁছতে যাচ্ছিলেন তিনি। আচমকাই হামলার মুখে পড়েন। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই বলে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও কেউ কান দেয়নি।

নির্বাচন ঘোষণার সাথে সাথেই চোপড়ায় গুলি বোমার লড়াই শুরু হওয়ায় উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন।

Shares

Comments are closed.