শনিবার, মে ২৫

কাঁথির তৃণমূল নেতার গলা কাটা দেহ মিলল হুগলির দাদপুরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি : কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের কিনারা হয়নি এখনও। এ বার গলাকাটা মৃতদেহ পাওয়া গেল কাঁথির দাপুটে তৃণমূল নেতা রীতেশ রায়ের। হুগলির দাদপুর থেকে উদ্ধার হল তাঁর দেহ। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন রীতেশ। পরিবারের পক্ষ থেকে মারিশদা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় ৯ তারিখ। তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

রবিবার রাতে দাদাপুর থানা থেকে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির গলাকাটা দেহের ছবি পাঠানো হয় পূর্ব মেদিনীপুরের মারিশদা থানায়। রীতেশের পরিবারকে ডেকে পাঠায় পুলিশ। তাঁরাই ছবি দেখে তাঁকে সনাক্ত করেন। রীতেশকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তাঁরা। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই ঘটনার জেরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে চাঁদবেড়িয়া গ্রামে। দেহ আনতে ইতিমধ্যেই দাদপুর চলে গিয়েছেন রীতেশের স্বজন ও স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা।

রীতেশের স্ত্রী মহুয়া জানান, সাত তারিখ বিকেলে একটা ফোন এসেছিল তাঁর স্বামীর কাছে। কথা শেষ করেই রীতেশ জানান, জরুরি কাজে কোলাঘাট যাচ্ছেন। এরপর আর কোনও কথা হয়নি। অনেক রাতে ফোন করে জানান, এক পরিচিত হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাই মালদা যেতে হচ্ছে তাঁকে। মহুয়ার কথায়, “এরপর আর ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। রাতে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলতে পারিনি। ফিরে আসবে ভেবে পরের দিনটাও অপেক্ষা করেছি। তারপর পুলিশকে জানাই।”

রীতেশ কাঁথি তিন পঞ্চায়েত সমিতির দূরমুঠ এলাকায় তৃণমূলের দাপুটে নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক কণিষ্ক পণ্ডা এই হত্যাকাণ্ডের দায় চাপিয়েছেন বিজেপির উপর। তিনি জানান, ২৯ জানুয়ারি কাঁথির পদ্মপুখুরিয়াতে অমিত শাহর সভা ফেরত বিজেপির কর্মী সমর্থকরা অশান্তি সৃষ্টি করলে তাঁদের বাধা দিয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রীতেশ। তারপর থেকেই তিনি বিজেপির নজরে ছিলেন বলে দাবি কণিষ্কবাবুর।

বিজেপির জেলা সভাপতি তপন মাইতি বলেন, “মিথ্যা অভিযোগ। ওই নেতাকে চিনিই না আমরা। দলের গোষ্ঠীকোন্দল বা টাকা ভাগাভাগির জেরেই হয়তো খুন হয়েছেন ওই ব্যক্তি। আর তার দায় চাপানো হচ্ছে আমাদের উপর। গোটা রাজ্যেই এমন চলছে।”

Shares

Comments are closed.