বুধবার, মার্চ ২০

রাত জেগে ল্যাপটপ-মোবাইল আর নয়, জানেন তো কম ঘুম বাড়ায় ডিহাইড্রেশন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনে কত ঘণ্টা ঘুমোন আপনি? রাত জেগে মোবাইলে খুটখাট, না অফিসের কাজ? নাকি কানে হেডফোন লাগিয়ে প্রিয় মানুষের সঙ্গে চ্যাট? কম ঘুমোলে কী কী সমস্যা হতে পারে সেটা আর ডিজিটালের যুগে আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তবুও জেনে রাখা ভাল প্রয়োজনের চেয়ে কম ঘুমোলে হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে, বাড়ে রক্তচাপ। সবচেয়ে বেশি সমস্যা বাড়ে ডিহাইড্রেশনের।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই প্রয়োজনীয়তার মাপকাঠি কতটা? কতটা ঘুমোলে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে পারেন একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ? স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীর–মন–মেজাজ এই তিনকে চাঙ্গা রাখতে অন্তত ৬–৮ ঘণ্টা নিশ্ছিদ্র ঘুম দরকার৷ না হলে কম ঘুমের প্রভাব পড়ে শরীর জুড়ে৷ মন ছন্নছাড়া হয়ে ভাব জমায় অবসাদের সঙ্গে আর শরীরে পিকনিক শুরু করে দেয় স্ট্রেস হরমোনেরা। ফলে যত রকমের রোগ আছে ডালপালা মেলতে শুরু করে। কাজেই বিশেষজ্ঞরা বলেন, শরীর যতটুকু চায় ততটুকু ঘুমোন, কার্পণ্য করবেন না৷

সম্প্রতি মার্কিন মুলুকের বিজ্ঞানীরা ঘুম কমের নানা কারণ ও কম ঘুমের কারণে বাড়তে থাকা ডিহাইড্রেশন নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন৷ ইউনিভার্সিটি অব পেনসলভানিয়ার অধ্যাপক ও গবেষক আসহার রসিঙ্গার বলেছেন, “দিনে আট ঘণ্টা ঘুম একেবারেই দরকার৷ যদি তার থেকে কম ছ’ঘণ্টাও ঘুমান তাহলে পরদিন দেখবেন শরীরে অস্বস্তি হচ্ছে৷ বারে বারে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, ক্লান্ত লাগছে৷” এই সব উপসর্গই ডিহাইড্রেশনের আগাম বার্তা দেয়৷ এটা বাড়তে বাড়তে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দানা বাঁধে শরীরে৷ তার থেকে মূত্রনালিতে সংক্রমণ, কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব হয়৷

আসহারের গবেষণার ফল ‘স্লিপ’ নামে একটি বিজ্ঞানপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে৷ সেখানে তিনি জানিয়েছেন, এই গবেষণার জন্য ২০,০০০ প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা ও পুরুষকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি৷ প্রত্যেকের ঘুমের অভ্যাস ও সময় রেকর্ড করে তাঁদের মূত্রের নমুনা ও শরীরে হাইড্রেশনের মাত্রা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন তিনি৷ দেখা গেছে, যাঁরা দিনে ছ’ঘণ্টার কম ঘুমান তাঁদের শরীরে সংক্রমণের হার অনেক বেশি৷ তাঁরা মাঝে মাঝেই ডিহাইড্রেশনে ভোগেন৷ আর যাঁরা ঘুমোন টানা আট ঘণ্টা, তাঁদের শরীর অনেক বেশি ঝরঝরে৷

কম ঘুমোলে কেন হয় ডিহাইড্রেশন?

বিজ্ঞানীরা জানালেন, মানুষের দেহ থেকে ভ্যাসোপ্রেসিন নামে এক ধরনের হরমোনের নিঃসরণ হয় যেটা দিনে ও রাতে শরীরে জলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে৷ কিন্তু, কম ঘুমোলে শরীরে বিপাকের হার কমে যায়, স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, ফলে ভ্যাসোপ্রেসিন নিঃসরণের হার অনেক কমে যায়৷ ঘুমের সময় তাই শরীরের জলের মাত্রা কমতে থাকে৷ ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেয়৷

এখন দেখে নেওয়া যাক কম ঘুমোলে আর কী কী রোগ হতে পারে?

  • সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, ভাল করে না ঘুমোলে শরীরে রোগ প্রতিরোধকারী অ্যান্টিবডি অনেক কম তৈরি হয় এবং তার ফলে ব্রেস্ট ও কোলন ক্যান্সারের প্রবণতা বাড়ে৷
  • প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম ঘুমোলে সাধারণ জ্বর–সর্দি–কাশি বেশি হয়৷ যার অন্যতম কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া৷
  • দিনের পর দিন কম ঘুমোলে বিপাক ক্রিয়ার হার কমে শরীরের ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষমতা কমে যায়৷ স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের পরিমাণ বেড়ে মনমেজাজ খারাপ হয় ৷
  • রাত জাগলে মানুষের খাই খাই প্রবণতাও অনেক বেড়ে যায়৷ চা-কফি থেকে চকোলেট বা চিপস চলতেই থাকে৷ ফলে ওজনও বাড়তে থাকে চড়চড় করে৷
  • কম ঘুমের হাত ধরে শারীরিক-মানসিক চাপ বাড়ে৷ যার ছাপ পড়ে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনেও৷
  • সেই সঙ্গে কমতে থাকে চেহারার চাকচিক্যও৷ ত্বকে কালচে ছাপ, চুলের জৌলুস কমে যাওয়া, অকালে বলিরেখা, শরীরে বয়সের ছাপ ফেলতে এর জুরি নেই৷

অতএব সব ভাবনা-চিন্তা ছেড়ে ভাল করে ঘুমোন৷ প্রেমিক-প্রেমিকাকে সময় দেবেন পরে, আগে তো ঘুমিয়ে বাঁচুন!

Shares

Comments are closed.