মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ড : রহস্যের জট খুলতে রামপুরহাটে বিউটির বাপের বাড়ির এলাকায় হানা, সন্দেহের তির এক যুবকের দিকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম : জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে শুক্রবার বিকেলে বীরভূমের রামপুরহাটে পৌঁছোল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের একটি দল। এই রামপুরহাটেরই মেয়ে ছিলেন নিহত স্কুল শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পালের স্ত্রী বিউটি।

জিয়াগঞ্জের লেবুবাগানের দম্পতি ও তাঁদের সন্তান খুনের ঘটনার তদন্তে আজ বিকেলে রামপুরহাটের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সৌভিক বণিক নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন লালবাগের এসডিপিও বরুণ বৈদ্য। তবে সৌভিককে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর পরিবারের লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চলে ওই বাড়িতে।

বিজয়া দশমীর সকালে সপরিবারে খুন হন জিয়াগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল। তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী বিউটি ও ছ’বছরের ছেলে বন্ধুঅঙ্গনকেও খুন করে আততায়ীরা। ঘটনা নিয়ে এখনও উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। তিন দিন পরেও অভিযুক্তদের কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সব মহলে।

আজ বেলা তিনটে নাগাদ লালবাগের এসডিপিওর নেতৃত্বে তদন্তকারী দল রামপুহাটে সৌভিকের বাড়িতে তাঁর খোঁজে আসে। বাড়িতে তাঁকে না পেলেও প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়ে বেশকিছু খাতাপত্র ও ডায়েরি নিয়ে যায়। এলাকার বাসিন্দারা জানান, সারা বছর বাড়িতে না থাকলেও প্রতিবার পুজোর সময় রামপুরহাটের বাড়িতে ফেরেন তিনি। কিন্তু এ বার তাঁকে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়নি। সৌভিক নেটওয়ার্ক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

সৌভিকের দাদা সৌরভ বণিক জানিয়েছেন, প্রায় ৬ মাস বাড়ি আসেনি তাঁর ভাই। জিয়াগঞ্জের নিহত স্কুলশিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পালের স্ত্রী বিউটির বাপের বাড়ি রামপুরহাট থানার শিউরা গ্রামে। কিন্তু এই খুনের সঙ্গে সৌভিকের কী সম্পর্ক তা এখনই বলতে চাননি তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা।

বন্ধুপ্রকাশবাবু রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবকের কর্মী হওয়াতেই তাঁর পরিবারকে শেষ করে দেওয়া হল বলে বিজেপির তরফে অভিযোগ ওঠে। এই হত্যাকাণ্ডের সিবিআই তদন্তের দাবি জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যদিও এর সঙ্গে রাজনীতির যোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন জেলার পুলিশকর্তারা। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলার এসপি শ্রী মুকেশ বলেন, “খুনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কতগুলি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি আমরা। আততায়ীদের যাঁরা সে দিন ছুটে পালাতে দেখেছিলেন এ রকম বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি।”

মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের খুনের ঘটনায় রামপুরহাটের পর সিউড়ি অরবিন্দ পল্লীর জাতীয় সড়ক লাগোয়া বাড়িতে এসে তল্লাশি চালানো লালবাগের এসডিপিও সহ মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ আধিকারিকরা, সঙ্গে ছিলেন সিউড়ি থানা আইসি অন্যান্য পুলিশকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ এসে বাড়ির তালা খুলে বেশকিছু নথিপত্র সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শৌভিক বণিক নামে ওই ব্যক্তি ঝাড়খণ্ডের কুন্ডহিতের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন বলে জানিয়েছিলেন। গতকাল বিকেলে তাকে শেষবারের মতো ওই বাড়িতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা দেয়ারও দাবি, তার পায়ে একটি আঘাতের চিহ্ন ছিল সেই​ কারণে সে হাটতেও পারছিল না।

 

দ্য ওয়ালের পুজো ম্যাগাজিন দেখতে ক্লিক করুন।

সুন্দরবনের  দুটি দ্বীপ, ভূমি হারানো মানুষ

Comments are closed.