রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

বিদ্যুতের শক দেওয়ার হুমকি, ছুরির আঘাত, স্নান সেরে ঘরে ঢুকতেই বধূকে ধর্ষণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর : বিদ্যুতের শক দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে এক বধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল খেজুরির কৃষ্ণনগর মোহাটিতে। ওই বধূর পড়শিরা জানান, থানায় গেলে মহরমের দিন অভিযোগ নেওয়া হবে না বলে জানায় পুলিশ। পরের দিন আসতে বলা হয় তাঁদের। পরে আইনজীবীর পরামর্শে জেলার অ্যাডিশনাল এসপির কাছে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। এই সব তোড়জোড় শেষ হতে হতে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত যুবক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির পুকুরে স্নান করছিলেন ওই বধূ। স্নান সেরে ঘরে ঢুকতেই পাড়ার এক যুবক তার উপর চড়াও হয়। ওই বধূর স্বামী পুজারী ব্রাক্ষ্মণ। পুজো করতে বাইরে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, বধূর মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে ওই যুবক ধর্ষণ করে তাকে। বাধা দিলে বিদ্যুতের শক দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করে বলেও অভিযোগ। এরপর প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় ওই বধূকে ফেলে রেখে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত।

স্বামী ঘরে ফিরতেই কাঁদতে শুরু করেন ওই বধূ। জানান পুরো ঘটনা। এরপর দুজনে মিলে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কোনওরকমে তাঁদের কথোপকথন শুনে ফেলেন তাঁদের পড়শি এক মহিলা। তিনি ঘরে ঢুকে এসে সমস্ত শুনে পাড়ার লোকজনকে ডাকেন। থানায় নিয়ে যাওয়া হয় ওই দম্পতিকে। পড়শিদের অভিযোগ, থানা থেকে তাঁদের বলা হয়, মহরমের দিন কোনও অভিযোগ নেওয়া যাবে না, পরের দিন আসতে। এরপর প্রতিবেশীদের সাহায্যেই এক আইনজীবীর কাছে যান তাঁরা। তাঁর পরামর্শে জেলার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানানো হয়।

অভিযুক্ত যুবক অবশ্য এখনও অধরা। নির্যাতিতা বধূ যাতে বিচার পান তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে জেলা সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্টও। ট্রাস্টের সম্পাদক কণিষ্ক পণ্ডা জানান, অপরাধীকে গ্রেফতারের দাবিতে প্রয়োজনে রাস্তায় নামবেন তাঁরা। কোনও ভাবেই এই অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না।

এ দিকে খেজুরি থানার আইসি জানান, মহরমের দিন অভিযোগ নেওয়া হবে না, থানার তরফে এমন কিছু বলা হয়নি। অভিযোগ লিখে আনতে বলা হয়েছিল। অভিযুক্ত যুবকের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

Comments are closed.