জলপাইগুড়িতে থাকেন? চিকেন বিরিয়ানি খাবেন? বিজয়দাকে ডাকুন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : স্কুটিতে বসানো বিরিয়ানির হাঁড়ি বাঁচিয়ে দিল ডুবতে বসা পরিবারকে।

বাড়িতে মা, স্ত্রী, দুই সন্তান। পাঁচটা পেটের সংস্থান করতে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল একসময়। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এখন জলপাইগুড়ি শহরে তিনি মোটের উপর পরিচিত নাম। বাড়িতে হঠাৎ কুটুম আসুক, বা বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় পাড়ায় ঠেকে বসে মুখ বদলের মন হোক, সঙ্গে সঙ্গে বিজয়দাকে ফোন। কিছুক্ষণের মধ্যেই চেনা স্কুটি চলে আসবে নজরে। আর নাকে কাঙ্খিত বিরিয়ানির সুবাস।

নেতাজি মোড়ের কাছে ঠেকে বসে বিরিয়ানি খেতে খেতে মৃন্ময় চক্রবর্তী বললেন, “জানেন, আমি জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বসে বিরিয়ানি খেয়েছি। অ্যাপে অর্ডার দিয়ে এনেও বিরিয়ানি খেয়েছি। একগাদা দাম পড়ে যায়। স্বাদও যে আহামরি, তেমন নয়। কিন্তু বিজয়দার বিরিয়ানি অনবদ্য। দামতো একেবারেই কম।”

এটাই বিজয় দা মানে বিজয় বসুর ইউএসপি।

একটা সময় মোমো আর চাউমিন বিক্রি ছিল জীবিকা। নেতাজি মোড়ের কাছে ভ্যান নিয়ে বসতেন। খুব যে লাভ হত তেমন নয়, তবে কোনওমতে চলে যেত দিন। একদিন চাউমিন তৈরির সময় হঠাৎ আগুন লেগে পুড়ে যায় ভ্যান। মুহূর্তে পথে বসেন বিজয়।

বেশ কিছুদিন পর টাকা পয়সা ধারদেনা করে যখন আবার ভ্যান কিনে মোমো চাউমিন নিয়ে নেতাজী মোড়ে আসেন, ততদিনে দেরি হয়ে গেছে অনেক। তখন সেখানে একই পসরা নিয়ে আরও অনেকে। এত প্রতিযোগিতার মুখে অল্প পুঁজিতে আর দাঁড়ই করাতে পারেননি ব্যবসা। ছেলে-মেয়ে-মা-বউয়ের মুখে দু বেলার খাবার জোগাড় করতেই তখন হিমশিম অবস্থা। পড়াশোনা শিকেয় সন্তানদের। বাড়ছে ঋণের বোঝা।

কী মনে করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মাস খানেক আগে একটি পোস্ট দিলেন তিনি। “অর্ডার দিন, আর বিরিয়ানি খান।” রান্নার হাত বরাবরই সাথ দিয়েছে তাঁর। এ বারও। পুঁজির অভাবে শুধুই চিকেন বিরিয়ানি বানাতে শুরু করেন বিজয়বাবু। তবে তাতেই কেল্লাফতে। “নামী দামি কোম্পানিগুলি যদি তাদের পিৎজা-বার্গার ডেলিভারি চার্জের বিনিময়ে বাইকে করে লোকের বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারে, তবে আমি পারব না কেন? এটা ভেবেই ওই পোস্ট দিয়েছিলাম আমি।” বলছেন বিজয়বাবু।

তবে তারপর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি বিজয়বাবুকে। এখন বাড়িতে বা ক্লাবের ঠেকে বসে তাঁর বানানো বিরিয়ানি খেতে রীতিমতো মুখিয়ে থাকছে গোটা জলপাইগুড়ি। রোজ বেলা ১২ টা থেকে বিকেল চারটে। ফের সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত জলপাইগুড়ি শহরের যে কোনও প্রান্তে ফোন করলেই মুহূর্তে স্কুটি নিয়ে বিজয় বাবু হাজির হয়ে যান তাঁর বানানো চিকেন বিরিয়ানি নিয়ে। ফুল প্লেট ৭০ টাকা। হাফ ৪০। ডিম নিলে অতিরিক্ত ১০ টাকা। ডেলিভারি চার্জ ফ্রি।

বিজয়বাবু বলেন, “পোস্ট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেশ কিছু অর্ডার পেয়ে যাই। দিন কে দিন আমার বিক্রি বাড়ছে।”

তাঁর স্ত্রী গৌরী বসু বলেন, “আগুন লাগার পর সংসারে চরম অভাব নেমে এসেছিল। আবার মুখ তুলে চেয়েছেন ভগবান।’’

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More