সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

ডেঙ্গি মোকাবিলায় সতর্ক করা হল স্কুল-কলেজকে, নির্দেশিকার পরেই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হুগলিতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ডেঙ্গি মোকাবিলার জন্য রাজ‍্যের সমস্ত স্কুল কলেজকে সতর্ক করেছে রাজ‍্যের শিক্ষা দফতর। যাতে ডেঙ্গির মশা বংশবিস্তার করতে না পারে তার জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের। এরমধ্যে আজই ডেঙ্গিতে মৃত্যু হল হুগলির এক স্কুল ছাত্রের। মৃত সুমন দাস (১৫) চণ্ডীতলার গঙ্গাধরপুর গ্রামের বাসিন্দা। শিয়াখালা বেণীমাধব হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে।

পরিবারসূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে জ্বরে ভুগছিল ওই ছাত্র। তাঁকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় দু দিন আগে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে রক্ত পরীক্ষায় এনএস-১ পজিটিভ ধরা পড়ে। মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার ওই হাসপাতালেই মারা যায় ওই স্কুল ছাত্র। এ বছর হুগলি জেলায় এটাই প্রথম ডেঙ্গির বলি।

হুগলির শ্রীরামপুর এলাকা বরাবরই ডেঙ্গিপ্রবণ। গত কয়েক বছর ধরেই পুজোর আগে ডেঙ্গি ছড়াচ্ছে শ্রীরামপুর এলাকায়। দু বছর আগে ডেঙ্গি প্রায় মহামারীর আকার নিয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল বেশ কয়েকজনের। সংখ্যায় কম হলেও গত বছরও এই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ডেঙ্গিতে মারা যান। এ বছর এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন তাঁরা। তবে বাঁচানো গেল না সুমনকে।

রাজ‍্যের আটটি জেলাকে ডেঙ্গি প্রবণ বলে চিহ্নিত করে অধিক সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকায়। এই জেলাগুলি হল উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর। ডেঙ্গি ছড়ালেও হুগলির নাম নেই এই তালিকায়।

এ বছর বর্ষার বৃষ্টি শুরুর আগে থেকেই ডেঙ্গি প্রায় মহামারীর আকার নেয় উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া-অশোকনগর ও সংলগ্ন এলাকায়। এছাড়া ডেঙ্গি ছড়িয়েছে গাইঘাটা-বাদুড়িয়া-দেগঙ্গাতেও। ইতিমধ্যেই সরকারি হিসেবে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলায়। বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা ২৫। জ্বরের রোগী উপচে পড়ছে জেলার হাসপাতালগুলিতে। এক একটি শয্যায় তিন থেকে চারজন পর্যন্ত রোগী রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। রক্ত পরীক্ষায় তাদের মধ্যে অনেকের দেহেই ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে।

Comments are closed.