সন্দেশখালির পর এ বার উত্তপ্ত জগদ্দল, বোমার আঘাতে মৃত্যু হল দুই তৃণমূল কর্মীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : সন্দেশখালির পর এ বার জগদ্দল। মঙ্গলবার সকালে রাজনৈতিক সংঘর্ষে ফের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল বাংলায়। বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। আহত আরও দু’জন।

    বস্তুত ভোটের পর থেকেই ভাটপাড়া, কাঁকিনাড়া, জগদ্দল, নৈহাটি সহ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। রোজ কিছু না কিছু হিংসার ঘটনা ঘটছেই। সোমবার রাত থেকে অশান্তি ছ়ড়ায় জগদ্দল থানা এলাকার বারুইপাড়াতে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, মূলত এলাকা দখল নিয়েই অশান্তির সূত্রপাত। তা ক্রমশ রাজনৈতিক হিংসার চেহারা নেয়। দু’পক্ষের বোমাবাজিতে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, দু’জনেই তাঁদের রাজনৈতিক কর্মী। এ ছাড়া তাদের আরও এক জন গুরুতর জখম হয়েছে দাবি করেছে তৃণমূলের। এলাকার তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিক বলেন, ” বিজেপির দুষ্কৃতীরা অর্জুন সিং এর নেতৃত্বে এই হামলা চালিয়েছে। প্রশাসন প্রশাসনের কাজ করছে। তবে তাদের আরও শক্ত হতে হবে।”
    বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ওরা বোমা বাধছিল। সেই সময়েই বিস্ফোরণ ঘটে মারা গিয়েছে। তার দায় চাপানো হচ্ছে বিজেপি-র উপর। ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহ বলেন, “পুলিশ পক্ষপাত করছে। তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে। বোম পড়েছে দুটো, আর পঁচিশ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে”। এই ঘটনায় জগদ্দল থানার পুলিশ এখনও পর্যন্ত লাল বাবু দাস, ইন্দ্রজিত দাস এবং প্রদীপ সাউ নামে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গত শনিবারই রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তর চব্বিশ পরগণার সন্দেশখালিতে এক জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, আদতে সন্দেশখালিতে মারা গিয়েছে তিন জন। পুলিশ ইচ্ছা করেই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছে না। বাস্তব যদি তাই হয় তা হলে গত নব্বই ঘন্টায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে শুধু উত্তর চব্বিশ পরগণাতেই মৃত্যু হল চারজনের।

    পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এলাকার দখলের লড়াই নিয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। কারণ, কোথাও বিজেপি-র ছাতায় তলায় এসে পুরনো বাম কর্মীরা তাদের পার্টি অফিস দখল করা শুরু করেছে। কোথাও আবার তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দলের ক্ষমতাসীন অংশের উপর চড়াও হচ্ছে। কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে সরাসরি বিজেপি-তৃণমূলে। এবং কখনও কখনও তা আবার গোষ্ঠী সংঘর্ষের আকার নিচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা কড়া হাতে দমন করার জন্য গতকালই পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, “বিজেপি গুণ্ডামি করবে আর পুলিশ চুপ করে থাকবে তা চলবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে পাল্টা সরব বিজেপি। দলের মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ দিয়ে বিজেপি-কে দমন করতে চাইছেন আর তৃণমূলের সমাজবিরোধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন। জেলায় জেলায় মানুষই এ বার তার প্রতিবাদ করতে শুরু করেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More