বৃহস্পতিবার, জুন ২০

কুম্ভীরাশ্রু! আদরের কুমিরের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম, রীতি মেনে হল শেষকৃত্যও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “গঙ্গারাম সে পাত্র ভালো, রং যদিও বেজায় কালো!”

তারে সবাই ডাকত গঙ্গারাম। রং ছিল মিশমিশে কালো। তাও সে ছিল ‘সৎপাত্র’। তাই গঙ্গারাম যখন পৃথিবীর মায়া কাটাল, চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি কেউ। গোটা গ্রাম ভেঙে পড়েছিল শোকে। ফুল, মালা, ধূপ-ধুনো সহযোগে মহা সমারোহে তার শেষকৃত্যও হয়েছিল। তাতে সামিল হয়েছিলেন ৫০০ জন গ্রামবাসী।

আর হবে নাই বা কেন, গঙ্গারাম তো আর যেমন তেমন কেউ ছিল না। মানুষরূপী কেউকেটা না হলেও সে ছিল চার পেয়ে অতি নিরীহ ও বাধ্য একটি কুমির। গ্রামের পুকুরেই ছিল তার বহু বছরের আস্তানা।  বয়সও হয়েছিল কিছু কম নয়, মেরেকেটে ১৩০ বছর। গত মঙ্গলবার ছত্তীসগড়ের বেমেত্রা জেলার বাওয়ামোহত্রা গ্রামে এই বৃদ্ধ কুমিরের মৃত্যুতেই চোখের জল ফেলতে দেখা গেল গ্রামের আট থেকে আশিকে। রীতি মেনে পালিত হল কুমিরের শেষকৃত্যও।

বন দফতর সূত্রে খবর, এই কুমিরটি দৈর্ঘ্যে ছিল প্রায় তিন মিটার। তার দেহের ময়নাতদন্তও করা হয়। রিপোর্টে দেখা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণেই মারা গেছে গঙ্গারাম।  তার মৃতদেহ ট্র্যাক্টরে চাপিয়ে ফুল, মালা দিয়ে সাজিয়ে গোটা গ্রামে ঘোরান হয়। শোভাযাত্রায় যোগ দেন প্রায় ৫০০ জন গ্রামবাসী। অনেকেই আবার তার গা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। চোখের জল মুখে গ্রামের বাসিন্দা বাসাওয়ান বলেন, “গঙ্গারাম শুধু কুমির ছিল না, তাকে আমরা দেবতা মনে করতাম। কোনওদিন কাওকে আক্রমণ করেনি। বাচ্চারাও পুকুরে নেমে খেলা করত। তার গা ঘেঁষে সাঁতার কাটত। গঙ্গারাম ফিরেও চাইত না।”

“ভাত আর ডাল খুব পছন্দ করত গঙ্গারাম। গ্রামবাসীরা পালা করে তাই দিত খেতে। পুকুরে কাওকে স্নান করতে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে অন্য পাড়ে চলে যেত, খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল গঙ্গারাম,” গভীর শোকে জানিয়েছেন আরও এক গ্রামবাসী বীর সিংহ দাস।

বন দফতরের সাব ডিভিশনাল অফিসার আরকে সিংহ জানিয়েছেন, কুমিরটির সঙ্গে গ্রামবাসীদের আবেগ দেখে তার দেহ পুকুর পাড়েই কবর দেওয়া হয়। গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান মোহন সাহু আবার গঙ্গারামকে গ্রামের রক্ষাকর্তা বলেই মানেন।  তাই গঙ্গারামের স্মৃতিতে খুব শীঘ্রই গ্রামে একটি মন্দির তৈরি করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Comments are closed.