মঙ্গলবার, আগস্ট ২০

জামাই ষষ্ঠী কেন? জেনে নিন এই পরব সম্পর্ক ১০ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

অনির্বাণ

১। জামাই ষষ্ঠী একেবারেই বাঙালি পার্বন। ওপার বাংলার সন্তান ষষ্ঠী এবার বাংলায় খুব বেশি করে জামাইদের খুশি করার পরব। তবে ধর্মীয় ভাবে এই দিনটি বেশি পালিত হয় অরণ্যষষ্ঠী হিসেবে। তবে মনে রাখতে হবে ষষ্ঠী দেবী শুধু বাঙালির পূজ্যা নন, তিনি সর্বভারতীয়।

২। মা ষষ্ঠী নিছক বাংলার এক গ্রামদেবী নন, মঙ্গলকাব্যের অপর দুই দেবী শীতলা ও মনসার মতোই তিনিও ভারতের নানা অঞ্চলে পূজিত হন।

৩। ষষ্ঠী ব্রতর কাহিনিটিও খুব বার্তাবহ। এক যৌথ পরিবারের ছোট বউ রোজ খাবার চুরি করে আর একটা কালো বেড়ালের নামে দোষ দেয়। বেড়ালটা এর প্রতিশোধ নিতে সেই ছোট বউয়ের বাচ্চা হলেই তাকে তুলে নিয়ে মা ষষ্ঠীর কাছে লুকিয়ে রেখে আসত। বউটি তা জানতে পেরে দেবীর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করল। মা ষষ্ঠী তাকে ক্ষমা করলেন দুই শর্তে। বললেন, এই দিন তাঁর পুজো করতে হবে এবং কালো বেড়ালকে তাঁর বাহন হিসেবে সম্মান করতে হবে।

৪। বায়ুপুরাণে ষষ্ঠী ৪৯টি দেবীর অন্যতম, আর একটি পুরাণে তাঁকে ‘সমস্ত মাতৃদেবীর মধ্যে আরাধ্যতমা’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

৫। যাজ্ঞবল্ক্যস্মৃতিতে মা ষষ্ঠী স্কন্দদেবের পালিকা-মা ও রক্ষয়িত্রী। পদ্মপুরাণেও তিনি স্কন্দের স্ত্রী।

৬। দেবী ষষ্ঠীর কাহিনিগুলি পাওয়া যায় বাংলায় মঙ্গলকাব্যে। ষষ্ঠীমঙ্গলে সর্পদেবীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখানো হয়েছে।

৭। অন্য রাজ্যেও ষষ্ঠী পূজার সঙ্গে সন্তান জন্মের সম্পর্ক রয়েছে। বিহারে সন্তানজন্মের পরে ছ’দিনের অনুষ্ঠানটিকে ছ’ঠী বলা হয়, ষষ্ঠী সেখানে ছ’ঠী মাতা, সন্তানহীনা দম্পতিরা তাঁর আরাধনায় ব্রত পালন করেন, ষষ্ঠী ব্রত। ওডিশায় সন্তানজন্মের ছ’দিন এবং একুশ দিনে এই দেবী পূজিত হন। উত্তর ভারতের কোথাও কোথাও বিয়ের সময়েও ষষ্ঠীর পুজো করা হয়। বাংলাতেও অনেকের মধ্যে ষষ্ঠী পালনের রেওয়াজ রয়েছে।

৮। ষষ্ঠী দেবীর মূর্তি পূজা হয় পূর্ববঙ্গে। মার্জারবাহিনী ষষ্ঠীর কোলে এক বা একাধিক শিশু। দুধ পুকুরের সামনে বট গাছের নীচে তাঁর অধিষ্ঠান।

৯। ষষ্ঠীকে আবার অমঙ্গলের দেবী বলা হয়েছে, তিনি কুপিত হলে মা ও শিশুদের দুঃখ দেন। কাশ্যপ সংহিতায় ষষ্ঠীকে বলা হয়েছে ‘জাতহরণী’, যিনি মাতৃগর্ভ থেকে ভ্রূণ অপহরণ করেন, সন্তান জন্মের ছ’দিনের মধ্যে তাকে ভক্ষণ করেন, তাই শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে ষষ্ঠ দিনে তাঁকে পুজো করা বিধেয়।

১০। এ-সবের মধ্যে জামাই ঢুকল কী করে? লোকাচার বিষয়ক গবেষকদের দাবি, আঠারো-উনিশ শতকে বাংলায় বাল্যবিবাহ এবং বহুবিবাহের ব্যাপক প্রচলন ছিল। বালবিধবা সমস্যা তখন মারাত্মক। এই অবস্থায় জামাই ও স্বামীর দীর্ঘ জীবনের প্রার্থনা বাঙালি মা এবং মেয়ের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর তার থেকেই অরণ্য ষষ্ঠী হয়ে ওঠে জামাইকে আপ্যায়নের পরব।

Comments are closed.