বুধবার, অক্টোবর ১৬

বেহাল স্বাস্থ্যের ১০ ছবি উঠে আসায় বৈঠকে অস্বস্তিই বাড়ল মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৈঠক শেষ হতেই উল্লাস এনআরএস হাসপাতালে। হাসিমুখে বৈঠক শেষ হয় নবান্নেও। যোগ দেওয়া জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা যেমন হাততালি দিয়ে বৈঠক শেষ করেছেন তেমনই মুখ্যমন্ত্রীও হাসি মুখে আন্দোলনকারীদের ‘লক্ষ্মী ছেলে’ বলে সম্বোধন করেছেন। কিন্তু এই হাসির আড়ালে রয়ে গেল এক গুচ্ছ অস্বস্তি।

নির্বাচনী প্রচারে কিংবা প্রশাসনিক সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী বারবার এই রাজ্যের বদলে যাওয়া স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর অধীনে থাকা স্বাস্থ্যমন্ত্রক যে সাধারণের জন্য অনেক কাজ করছে সে কথা বলেন। এদিন বৈঠকেও তিনি বাম আমলের সঙ্গে তুলনা করে নিজের সরকারের প্রশস্তি গেয়েছেন। বলেছেন, ২০১১ সালে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। ২০১৮-য় তা বাড়িয়ে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। বলেছেন, তাঁর স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প, হাসপাতালে হাসপাতালে বেড বাড়ানো, মেডিক্যাল কলেজে আসন বাড়ানো কিংবা শিশু চিকিৎসায় বদল আনার কথা।

এদিন রাজ্যের সবক’টি মেডিক্যাল কলেজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সামনে এসে গেল ঘোষিত ‘উন্নয়ন’-এর সত্যাসত্য। জুনিয়র চিকিৎসকরা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে বিনয়ের সঙ্গে জানিয়ে গেলেন প্রস্তাবিত প্রকল্প আর বাস্তবের সঙ্গে ঠিক কতটা ফারাক রয়েছে এই রাজ্যে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কোন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে মুখ্যমন্ত্রীকে নজর দিতে বললেন জুনিয়র চিকিৎসকরা–

১। কলকাতার হাসপাতালে বড় বড় গেট তৈরি হলেও জেলায় ও গ্রামাঞ্চলে অনেক হাসপাতালে কোনও গেটই নেই।

২। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেই সিটি স্ক্যানের সুবিধা নেই।

৩। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরেই রয়েছে অটো, টোটো স্ট্যান্ড।

৪। অনেক জায়গাতেই উন্নত যন্ত্রপাতি এসে পড়ে রয়েছে। জং ধরছে কিন্তু কাজ হচ্ছে না।

৫। বড় হাসপাতালেও এক বেডে পাঁচ জন রোগীকে আশ্রয় দিতে হয়।

৬। চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুর খরচই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় নয়। অনেকেই মনে করেন ২ টাকার টিকিট করলে সব সুবিধা মিলবে।

৭। ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন আনতে দরকারি অ্যাম্বুলেন্স নেই।

৮। রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে এসে দাদাগিরি চালান।

৯। সদ্যজাতর চিকিৎসার জন্য অনেক হাসপাতালেই এসএমএসইউ হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় এনআইসিইউ বা পিআইসিইউ নেই।

১০। বহু হাসপাতালেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই। রোগীর চাপে ওপিডি চালাতে হয় বিকেল চারটে পর্যন্ত।

Comments are closed.