সোমবার, আগস্ট ২০

দিল্লি ভুলে যান, বাংলাতেই হিমশিম খাবেন: মমতাকে বলবেন অমিত

দ্য ওয়াল ব্যুরোরাজ্যসভায় ডেপুটি চেয়ারম্যান নির্বাচনেই দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবিত ফেডারেল ফ্রন্ট শুরুতেই কতটা ভঙ্গুর! যে চন্দ্রশেখর রাওকে সম্প্রতি নবান্নে আপ্যায়ন করেছিলেন মমতা, সেই তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রীর দলই ডিগবাজি খেয়ে বিজেপি তথা এনডিএ প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর হাত শক্ত করেছেন নবীন পট্টনায়েকও। ভোট দানে বিরত থেকেছে আম আদমি পার্টি থেকে শুরু করে জগন্মোহন রেড্ডির ওয়াই এস আর কংগ্রেস!

বিজেপি সূত্র জানাচ্ছে, শনিবার রানি রাসমনি রোডের সমাবেশ মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঠিক এখান থেকেই তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে পারেন তাঁদের দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। বিশ দিন আগে এই ধর্মতলাতেই একুশের মঞ্চ থেকে মমতা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর লক্ষ্য এ বার দিল্লি। এবং সেই যাত্রা পথে তাঁর মাধ্যম হবে তথাকথিত আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে তাঁর প্রস্তাবিত ফেডারেল ফ্রন্ট।

কিন্তু বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, ফেডারেল ফ্রন্টের কোনও ভবিষ্যৎ নেই। তা যে সোনার পাথরবাটি, ব্যক্তি স্বার্থতাড়িত কিছু আঞ্চলিক দলের সমষ্টি, তা নিয়ে কাল খোঁচা দিতে পারেন দলীয় সভাপতি। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় ভোটাভুটির প্রসঙ্গ টেনে আনতে পারেন। পাশাপাশি, অমিতের বার্তা হবে, দিদি-কে বাংলাতেই আটকে দিতে হবে। বাংলায় বিজেপি-কে এতটাই সক্রিয় করে তোলার কথা বলবেন অমিত, যাতে তৃণমূল আপাতত নিজেদের জমি বাঁচাতেই ব্যস্ত থাকে। এরই পাশাপাশি অসমে জাতীয় পঞ্জিকরণের প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি নিয়ে চাঁচাছোলা আক্রমণে যেতে পারেন বিজেপি সভাপতি। এমনকী, ২০০৫ সালে লোকসভায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মত জানিয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গও কাল টেনে আনা হতে পারে বিজেপি-র মঞ্চে।

বিজেপি সূত্রে খবর, এই মর্মেই মূলত ‘টকিং পয়েন্ট’ তৈরি হচ্ছে অমিত শাহ-র বক্তৃতার। দলের এক নেতার কথায়, অমিত শাহ-র সামনে শনিবার চ্যালেঞ্জ তিনি নিজে। পুরুলিয়ার বলরামপুরে সভা করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণকে যে উঁচু তারে বেঁধে দিয়েছিলেন, সেখানে নিজেকে ধরে রাখাটাই পরীক্ষা।

দলের একটি সূত্রের বক্তব্য, অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে বাংলায় এবং জাতীয় স্তরে তৃণমূল যে প্রচার চালাচ্ছে তার পাল্টা প্রচার চালাতে রাজ্য বিজেপি সফল হয়নি বলেই মত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। তাঁদের বক্তব্য, এনআরসি-র বিরোধিতা করে মমতা প্রথমত তাঁর সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ককে আরও মজবুত করতে চাইছেন। কিন্তু কৌশলে একবারও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কথা মুখে বলছেন না। বলছেন, অসমে বাঙালি খেদাও চলছে। এবং একথা বলে সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি বাংলায় সার্বিক ভাবে তৃণমূল বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি বাঙালি বিরোধী।

বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও সঙ্ঘ পরিবারের নেতাদের বক্তব্য, এনআরসি নিয়ে রাজ্য বিজেপি-কে আরও আগ্রাসী প্রচারে যেতে হবে। বাংলার মানুষকে বোঝাতে হবে, এক এক্ষুনি কাউকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার প্রশ্ন নেই। দুই, বাংলাদেশ থেকে যে হিন্দু শরণার্থীরা এ দেশে এসেছেন তাঁরা কোনও ভাবেই বিপন্ন হবেন না। বরং তাঁদের ভারতে নাগরিকত্ব দিতে সংসদে বিল পাশ করানো হচ্ছে। এবং তৃতীয়, বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘু অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।

বস্তুত, অমিত শাহ যে শনিবার এনআরসি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হতে পারেন তা আঁচ করছেন তৃণমূল নেতৃত্বও। সে কারণেই শনিবার কলকাতা বাদ দিয়ে রাজ্যের সর্বত্র এনআরসি-র বিরোধিতায় ধিক্কার দিবস পালনের ডাক দিয়েছে তৃণমূল। কলকাতায় ধিক্কার দিবস পালন করা হবে রবিবার।

 

Shares

Leave A Reply