TheWall

১০টি ফাঁসির দড়ি তৈরির নির্দেশ গেল বিহারের জেলে, এবার কি তাহলে নির্ভয়া কাণ্ডে দোষীদের ফাঁসির সাজা কার্যকর! জল্পনা তুঙ্গে

0

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে তৈরি রাখতে হবে ১০টি ফাঁসির দড়ি। এমন নির্দেশই গিয়েছে বিহারের বক্সার জেলার জেলখানায়।বক্সার জেলের সুপার বিজয় কুমার অরোরা সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, জেল ডিরেক্টরেটের তরফে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে বক্সারের জেলে। তবে কোথায় এই দড়ি সরবরাহ করতে হবে কিংবা কোথায় এই ১০টি ফাঁসির দড়ি কাজে লাগানো হবে সে ব্যাপারে ওই নির্দেশিকায় কিছু বলা হয়নি।

ফাঁসির দড়ির তৈরির জন্য বক্সারের এই জেল বহুদিন ধরেই বিখ্যাত। ২০১৬-১৭ সালে সংসদ হামলায় দোষী আফজল গুরুর ফাঁসির সময় শেষ বার এই জেল থেকে সরবরাহ হয়েছিল ফাঁসির দড়ি। দেশের যে প্রান্তেই ফাঁশির সাজা ঘোষণা হোক না কেন দড়ি যায় বক্সারের এই জেল থেকেই। এবার একসঙ্গে ১০টি ফাঁসির দড়ি তৈরির বায়না পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। অনেকেই মনে করছেন এবার হয়তো নির্ভয়া কাণ্ডে দোষীদের ফাঁসির সাজা কার্যকর হবে।

বক্সার জেলে তৈরি ফাঁসির দড়ির কী কী বৈশিষ্ট্য রয়েছে-

১। ভারতের যে কোনও প্রান্তে ফাঁসির সাজা ঘোষণা হলে দড়ি যায় বক্সারের এই জেল থেকেই।

২। ১৫২-স্ট্র্যান্ডের সরু সুতো পাকিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী দৈর্ঘ ও ব্যাসের দড়ি বানানো হয়।

৩। প্রতিটি দড়িতে প্রয়োজন হয় ৭ হাজার সুতো।

৪। দড়ির উপরের অংশ মসৃণ করতে প্রয়োজন হয় লোহা এবং পিতলের সরু সুতো। ফাঁসির পরে দড়ি যাতে গলায় শক্ত ভাবে আটকে থাকে সেই কারণেই এটা করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলের সুপার।

৫। একটা দড়ি তৈরি করতে ৫ থেকে ৬ জন কারিগর লাগে।

৬। খুব বেশিদিন এই দড়ি সংরক্ষণ করা যায় না। বেশিদিন ফেলে রাখলে দড়ি কমজোরি হয়ে যায়।

সম্প্রতি হায়দরাবাদে তরুণী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দেহ। তারপর সাইবারাবাদ পুলিশের এনকাউন্টারে খতম হয়েছে চার অভিযুক্ত। এই ঘটনার পরেই মৃত্যু হয় উন্নাওয়ের ধর্ষিতা তরুণীর। আদালতে সাক্ষী দিতে যাওয়ার সময় তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয় তরুণীরই ধর্ষণ কাণ্ডের অভিযুক্তরা। এই দুই ঘটনার পর থেকেই বারবার উঠে আসছিল নির্ভয়া কাণ্ডের ভয়ঙ্কর স্মৃতি। দোষীদের ফাঁসির সাজা কেন কার্যকর হচ্ছে না তাই নিয়ে বিভিন্ন মহলে উঠেছিল নানা প্রশ্ন। এর মধ্যেই বক্সারের জেলে ১০টি ফাঁসির দড়ি তৈরির নির্দেশ আসায় শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজধানী শহর দিল্লিতে গভীর রাতে ফাঁকা বাসে জোর করে তুলে নেওয়া হয় বছর কুড়ির এক তরুণীকে। মেডিক্যালের ওই ছাত্রীর উপর চলে অমানবিক অত্যাচার। নৃশংশতার সীমা পেরিয়ে পাঁচজন মিলে তরুণীকে গণধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ৫ অভিযুক্তের ফাঁসির আদেশ দেয় নিম্ন আদালত। জেলে থাকাকালীনই এক দোষী রাম সিং আত্মহত্যা করে। আর এক দোষী অপরাধের সময় নাবালক হওয়ায় সর্বোচ্চ তিন বছর জেল খাটার পর ছাড়া পেয়ে যায়। দিল্লি হাইকোর্টে ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন সাজার আর্জি জানায় বাকি তিন দোষী। দিল্লি হাইকোর্টে সেই আর্জি খারিজ হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টেও খারিজ হয় এই আবেদন। এরপর দোষীদের মধ্যে এক জন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করে। সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতি এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি।

Share.

Comments are closed.