দেশি মদের ঠেক ভাঙছেন মহিলারা, অন্যদল সামলাচ্ছে কারবার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সকাল থেকেই ধুন্ধুমার কাণ্ড ক্যানিংয়ের দিঘিরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। লাঠি-ঝাঁটা-খুন্তি নিয়ে হই হই করে এলাকার সব দেশি মদের ঠেক ভাঙতে শুরু করেছে মহিলারা। অন্য দিকে, বিপরীত ছবিও দেখা গেল কোনও কোনও জায়গায়। রীতিমতো মিছিল করে ঠেক ভাঙা রুখছেন একদল মহিলা। দেশি মদের বেআইনি কারবারের মালকিন তাঁরাই। পুলিশের ধরপাকড় সত্ত্বেও নিজেদের পেশা বদলাতে নারাজ তাঁরা।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, ক্যানিংয়ের বেশ কয়েকটি গ্রামে এখনও লুকিয়ে চুরিয়ে চলছে দেশি মদের কারবার।  শুধু দিঘিরপাড় এলাকায় নয় তালদি, নিকারীঘাটা, সাতমুখী-সহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে এই সব ঠেক। পাশাপাশি, ব্যাঙের ছাতার মতো বাড়িতে বাড়িতেও বেআইনি মদের কারবার খুলে বসেছেন মহিলারা। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।

    পুলিশ জানিয়েছে, চোলাই অনেকটা বন্ধ হওয়ার পরে সেই জায়গা নিয়েছে দেশি মদের কারবার। সেখানেও মহিলারা যুক্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, স্বামীরাই স্ত্রীদের এই কাজে এগিয়ে দিচ্ছেন। ধরা পড়ার পরে পুলিশকে ওই মহিলারা জানিয়েছেন, অভাবের সংসারে সহজ রোজগারের আশায় তাঁরা মদের কারবারে নেমেছেন।

    ঠেক ভাঙতে আসা এলাকারই এক মহিলা স্বরস্বতী মন্ডল বলেছেন, ‘‘বাড়ির পুরুষরা এই সব ঠেক থেকে মদ কিনে খাচ্ছে। আর নেশার চোটে বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর, স্ত্রীদের মারধর সবই চলছে। এলাকায অশান্তিও ছড়াচ্ছে এই কারণে{ কেউ কেউ অতিরিক্ত মদ সেবনের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ’’  এলাকার মানুষের দাবি বিভিন্ন সময় আবগারি দফতর কে জানানো সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উপরন্তু দিন দিন আরও ডালপালা মেলছে এই সব দেশি মদের ঠেক। পুলিশের বিরুদ্ধেও উঠেছে অভিযোগের আঙুল। স্থানীয় মদ বিক্রেতা বাসন্তীর দাবি, “আমরা মদ বিক্রির পয়সা একা খাই না। পুলিশকে দিয়েই খাই। ব্যবসা শুরুর পর আবগারি দফতরকে পাঁচ হাজার টাকা ও থানাকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে মাসোহারা দিই।” তাঁর দাবি, আদিবাসী সমাজে মদ চলবেই, কারণ এখানকার বিয়ের অনুষ্ঠানও মদ ছাড়া হয় না।

    দেশি মদের ঠেক ভাঙতে যখন একজোট হয়েছেন মহিলারা, তখন ঠেক বাঁচাতে মরিয়া মদের দোকানের মালিক আদিবাসী মহিলারাও।  পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের এক এক জনের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে কয়োকশো দেশি মদের বোতল। সাম্প্রতিক সময়ে হাবড়া, গোপালনগর, বাগদা থানার পুলিশ বেশ কয়েকজন মহিলা মদের কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের অনুমান, মদের কারবারে জড়িত সন্দেহে মহিলাদের উপরে প্রাথমিক সন্দেহ কম হয়। নজরদারি তুলনায় কম থাকে। সেই সুযোগটাই নেয় কেউ কেউ। এলাকায় ঘুরে ফেরিও করে। শাড়ির আঁচলের তলায় বোতল লুকিয়ে নিয়ে গিয়ে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More