বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮

খেলতে গিয়ে বুকে চোট, হাসপাতালে মৃত্যু স্কুল টিমের ফুটবলারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া : ফুটবল প্রতিযোগিতা চলছিল স্কুলে। খেলা চলাকালীনই বুকে চোট পেয়ে মৃত্যু হলো এক প্রতিশ্রুতিবান ফুটবলারের। মৃতের নাম অভিজিৎ দে (১৭)। বাঁকুড়ার জয়পুর ব্লকের আশুরালি হাই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সে।

সোমবার জয়পুর হাইস্কুল মাঠে আশুরালি হাইস্কুলের সঙ্গে মাগুরা হাইস্কুলের খেলা চলছিল। এ সময় গোলকিপারের দায়িত্বে থাকা অভিজিৎ গুরুতর চোট পান। শিক্ষক ও আয়োজকরা সঙ্গে সঙ্গে জয়পুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান তাকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে পাঠানো হয় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে জয়পুর ব্লক এলাকায়।

আশুরাল হাইস্কুলের ফুটবল টিমের সদস্য রাহুল মণ্ডল বলেন, “প্রতিপক্ষ দল কর্নার থেকে গোলে শট মারে। গোলকিপারের দায়িত্বে থাকা অভিজিৎ সেই বল ধরে ফেলেছিল। এ সময় সেখানে উপস্থিত প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়ারদের সঙ্গে ধাক্কা লেগেছিল তার। সেই আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে অভিজিতের।” আরেক ছাত্র সব্যসাচী খাঁ বলেন, “বিপক্ষের স্ট্রাইকারের সঙ্গে আমাদের গোলকিপার অভিজিৎ দে’র মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখনই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু বাঁচানো গেল না।”

এলাকায় মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত অভিজিৎ ছোটো থেকেই ভালো ফুটবল খেলতো। প্রতিবেশী লায়লা বিবি বলেন, “খুব শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। এই ধরণের ঘটনা কোনও দিন ঘটবে ভাবতেই পারিনি।”

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন আশুরালি হাই স্কুলের পরিচালন কমিটির সদস্য ইগরাম জমাদার। তিনি বলেন, “জয়পুর মাঠে আমাদের আশুরালি হাইস্কুলের সঙ্গে মাগুরা হাইস্কুলের খেলা ছিল। প্রথম পর্যায়ে ১-০ গোলে মাগুরা হাইস্কুল এগিয়ে যায়। পরে সেই গোল আমাদের ছেলেরা শোধ করে আরও একটা গোল দেয়। পরে প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে মারা বল ধরতে গিয়ে আমাদের স্কুলের গোলকিপার অভিজিৎ দে আঘাত পায়। ওর চিকিৎসার ব্যাপারে ব্লক ও জেলা প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবুও দুর্ভাগ্য ওকে বাঁচানো গেল না।”

খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে যান এলাকার বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা। তিনি বলেন, “এই ঘটনা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত। খেলা চলাকালীন মাঠে চোট পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর আইসিইউতে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল ওর।” অকালপ্রয়াত ওই ফুটবলারের দাদাকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।

Comments are closed.