বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

আঙুলে কালি লাগিয়ে সংসদের ভোট দিল ওরা, হল কিন্তু ব্যালটেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : ইভিএম চান না দিদি। ওরাও ইভিএম নয়, ভোট দিল ব্যালটেই। হইহই করে। সেন্ট্রাল ফোর্স, রাজ্য পুলিশের খাঁকি উর্দির উঁকিঝুঁকি ছাড়াই। হুমকি, চোখরাঙানি, এ সব হয়তো ছিল না, কিন্তু গণতন্ত্র উদযাপনের উৎসবে উত্তাপ কিন্তু ছিল দিনভরই। ভোট দিয়ে আঙুলে কালি লাগিয়ে বাড়ি ফিরে গেল ভোটাররা। ভোটার মানে সুমিত্রা, স্নেহাশিস, সৌগতরা। ভাগ্যগণনার জন্য বিকেল পর্যন্ত দুরুদুরু বক্ষে অপেক্ষায় থাকল শুধু প্রার্থীরা।

শুক্রবার ভোট হল শহরের বিবেকানন্দ স্কুলে। ছাত্রদের ভোটে নির্বাচিত হলেন সংসদের প্রতিনিধিরা। শিশু সংসদ।

২০০৯ সালে পাশ হয় শিক্ষার অধিকার আইন। এই আইন অনুযায়ী স্কুলের শিক্ষা, খেলাধুলো, পরিবেশ, মিডডে মিল ইত্যাদি সমস্ত ব্যাপারে যাতে মতামত দিতে পারে পড়ুয়ারা, সেই লক্ষ্যেই এই সংসদ গঠনের সিদ্ধান্ত। রাজ্যের বেশিরভাগ সরকারি স্কুলেই রয়েছে শিশু সংসদ। সেখানে প্রতিনিধিদের মনোনীত করাই রেওয়াজ। তবে একটু অন্য পথে হাঁটল জলপাইগুড়ির বিবেকানন্দ স্কুল। এ বারই প্রথম ভোট করে বেছে নেওয়া হল সংসদের প্রতিনিধিদের। ভবিষ্যতে সুস্থ ও অবাধ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাতে পড়ুয়ারা অংশ নিতে পারে তাই এই উদ্যোগ বলে জানালেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আলো সরকার জানালেন, তাঁদের স্কুলের অনির্বাণ দাস নামে এক সহকারী শিক্ষকের মাথায় প্রথম আসে স্কুলের শিশু সংসদে প্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়টি। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে এই প্রস্তাবে রাজি হই। কারণ নির্বাচন কমিশন এখন স্কুলে ইভিএম নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। আর এঁরাই তো ভবিষ্যতে ভোট দেবে। সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য তাই ব্যালটের মাধ্যমেই ভোট হোক।”

এরপরেই স্কুলে ভোটার লিস্ট, নমুনা ব্যালট, ব্যালট ইত্যাদি তৈরি করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী, পরিবেশ মন্ত্রী, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রী, খাদ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী, এবং অর্থ ও শিক্ষামন্ত্রী এই ৫ মন্ত্রীর পদে ভোটে দাঁড়ায় ৩০ জন ছাত্র ছাত্রী। সবাই পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। ৫ টি আলাদা রঙের ব্যালটে নেওয়া হয় ভোট। শুক্রবার ভোট গ্রহণের পরে ফলাফলও প্রকাশ হয় একই দিনে।

স্কুলের ছাত্রী সুমিত্রা রায়ের কথায়, “১৮ বছর হলে আমি দেশের একজন নাগরিক হব। তখন দেশ বা রাজ্য গড়তে ভোট দেবো। তার আগেই ভোট দিলাম স্কুলে।”

উচ্ছ্বসিত স্কুলের আরেক ছাত্র সায়ন বলে, “ভোট দিয়ে হাতে কালি লাগাতে পেরে দারুন লাগলো। বড় হওয়ার আগেই আমরা জেনে নিলাম কী ভাবে ভোট দিতে হয়।”

Comments are closed.