বন দফতরের ড্রাইভের সময়েই বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে শক খেয়ে মৃত্যু তিনটি হাতির

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম : দলমায় ফেরানোর জন্য চলছিল ড্রাইভ। কিন্তু সে পথে যে  বিদ্যুতের ছেঁড়া তার পড়েছিল, জানতেন না বনদফতরের কর্মীরা। ১১ হাজার ভোল্টের সেই তারে শক খেয়ে মৃত্যু হল তিনটি পূর্ণবয়স্ক হাতির। মঙ্গলবার রাতে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের শিলদা রেঞ্জের বিনপুর বিটে ওই ঘটনা ঘটে।

    বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে লালগড় রেঞ্জে ১৮ টি হাতির একটি দল ছিল। গতকাল রাতে লালগড় থেকে কুশবনি হয়ে মালাবতী জঙ্গলের পাশ দিয়ে বেলপাহাড়ি দিকে ড্রাইভ করে হাতিগুলোকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ শিলদা রেঞ্জের সাতবাকি গ্রামের কাছে জমি বরাবর হেলে থাকা বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তিনটি দাঁতালের ।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফরেস্ট গার্ড রবি মুদি ও সুজয় অধিকারী জানান, হাতিগুলিকে ড্রাইভ করে কুশবনি থেকে বেলপাহাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। দলে মোট ১৮ টি হাতি ছিল। দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছিলো তারা। একটি দলে ছিল ছোট ও মাঝ বয়সের প্রায় ১২ টি হাতি। আর একটি দলে ছিল ৬ টি পূর্ণবয়স্ক হাতি। সাতবাঁকি গ্রামের কাছে ফাঁকা কৃষি জমির উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো হাতিগুলিকে। সেই সময় দেখে যায় জমির মধ্যে হেলে রয়েছে ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার। বৃষ্টির হওয়ায় জমিতে জল জমে ছিলো। ছোট হাতির দলটি বাঁ দিক হয়ে পেরিয়ে যায়। বড় হাতিগুলি ডান দিক হয়ে যাচ্ছিলো। ঠিক সেই সময় গ্রামবাসীরা  টর্চ লাইট জ্বালিয়ে চিৎকার শুরু করে। হাতি গুলি ভয়ে তারের দিকে চেপে যায়। আর তখনই তিনটি হাতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তাঁদের কথায়, “জমিতে জল থাকায় নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় ছিলো না আমাদের।”

    এলাকার বাসিন্দা অমৃত মণ্ডল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই ভাবেই বিদ্যুতের খুঁটি ঝুঁকে রয়েছে। ১১ হাজার ভোল্টের তারগুলি জমির বরাবর পড়ে রয়েছে। তাই জমিতে চাষ করতে যেতেও ভয় করে। বিদুৎ দফতরে বহুবার অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু তাঁরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। আজ এই ঘটনার জন্য বিদ্যুৎ দফতরই দায়ী।”

    ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ডিএফও বাসবরাজ হলৈচি বলেন, “কুশবনি থেকে হাতিগুলিকে ড্রাইভ করে বেলপাহাড়ির দিক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় হেলে থাকা বিদ্যুতের তারে শক খেয়ে মৃত্যু হয় তিনটি হাতির। আমরা বিদ্যুৎ দফতরকে বিষয়টি জানাচ্ছি। যে যে জায়গায় বিদ্যুতের তার পড়ে রয়েছে সেগুলিকে অবিলম্বে সরানো দরকার।”

    বিদ্যুৎ দফতরের বিনপুরের এসএস সরোজ দে বলেন, “আমি কিছু বলতে পারব না। যা বলার ডিভিশনাল ম্যানেজার বলবেন।” ঝাড়গ্রামের ডিভিশনাল ম্যানেজার উজ্জ্বল রায় বলেন, “সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য করার অধিকার আমার নেই। যা বলবার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক বলবেন।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More