বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

বৃষ্টিতে ধস, উদ্বেগে পাহাড় ছেড়ে ডুয়ার্সের দিকে পর্যটকরা

  • 31
  •  
  •  
    31
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি : খাতায় কলমে পর্যটন মরসুম শেষ হয় মে- জুনেই। কিন্তু তারপরেও পর্যটকদের আনাগোনায় খুব যে একটা খামতি থাকে, তেমন নয়। সংখ্যায় কিছুটা কম থাকলেও বৃষ্টির মরসুমেও পাহাড় আর ডুয়ার্সে ভিড় থাকেই। আর এখন তো মনসুন ট্যুরিজমের কল্যাণে এই ভিড় বাড়ছে ক্রমশই।

১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জঙ্গল বন্ধ থাকে। তা সত্ত্বেও জঙ্গলের কোর এরিয়ার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় যেতে পারেন পর্যটকরা। বৃষ্টির ধারা স্নানের পর জঙ্গলের তাজা সবুজের টানে ভিড় জমান অনেকেই। কিন্তু টানা বৃষ্টি, সাম্প্রতিক ধস, বিভিন্ন নদীতে জলোচ্ছ্বাসের কারণে পর্যটকদের সেই উচ্ছ্বাসে ভাটার টান।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। গত রাতেও ধস নামে, তিনধারিয়া, গয়াবাড়ি ও সোনাদার একাধিক জায়গায়। বন্ধ রয়েছে টয়ট্রেন চলাচল। বিভিন্ন রাস্তায় বড় ফাটল। যে কোনও সময় তা ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে আতঙ্কিত পর্যটকরাও। যাঁরা পাহাড়ে রয়েছেন তাঁদের অনেকেই সফরসূচি কাটছাঁট করে দ্রুত সমতলে ফিরতে চাইছেন বলে জানিয়েছেন ট্যুর অপারেটররা। আর যাঁরা এখনও পৌঁছোননি, তাঁরা পাহাড় ক্যানসেল করে চলে যাচ্ছেন ডুয়ার্সের দিকে।

পরিবার নিয়ে তিন দিনের জন্য দার্জিলিংয়ে এসেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা রঞ্জন বসু। আবহাওয়ার ভাবগতিক আর ধসের ভয়ে পাহাড়ে তিন দিন কাটানোর পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। তাঁর কথায়, “থাকতে সাহস হচ্ছে না। যদি আটকে পড়ি। ভাবছি  ডুয়ার্সে চলে যাব।”

পাহাড়ের ট্যুর অপারেটররা বলছেন, “অনেক পর্যটকই টানা ধস ও বৃষ্টির জেরে আতঙ্কিত বোধ করছেন। বড় ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে আটকে পড়তে হবে ভেবে নেমে যেতে চাইছেন তড়িঘড়ি। সবাই ট্রেন বা ‌বিমানে ফেরার টিকিট কেটে রেখে ঘুরতে আসেন। আটকে পড়লে টিকিট বাতিল করতে হতে পারে সেই আশঙ্কাতেই পাহাড় ছাড়ছেন।” ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশিস মৈত্র বলেন, “এখন অফ সিজনেও কমবেশি পর্যটক আসেন। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু বৃষ্টি ও ধসের জন্য অনেক পর্যটকই সফরসূচি কাটছাঁট করছেন। তবে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। কোনও অসুবিধে হলে আমরাও পর্যটকদের পাশে রয়েছি।”

হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ারর্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, “প্রতিবছরই এই সময় প্রচুর পর্যটক আসে। একই ভাবে বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটে। যারা এই বিপর্যয় সামলান সেই সংস্থাগুলোর মধ্যে কোথাও একটা সমন্বয় থাকা জরুরি। তাতে পর্যটকরা আরও আশ্বস্ত বোধ করবেন।” পাশাপাশি পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষার জন্য পর্যটকদের সচেতন থাকতে হবে বলেও জানান তিনি।

Comments are closed.