বুধবার, জুলাই ১৭

পড়শিরা বলছেন ‘জয় শ্রীরাম’ বলেছিলেন, আমতায় বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুন

 দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া : ফের এক বিজেপি কর্মী খুন হলেন হাওড়ায়। এ বার আমতা থানার সরপোতা গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে নিহতের নাম সমতুল দলুই (৪৬)। ‘জয় শ্রীরাম’ বলায় সোমবার তাঁকে পিটিয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ।

‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ায় শুক্রবার রাতে মারধর করা হয়েছিল আমচটা গ্রামের বাসিন্দা স্বদেশ মান্নাকে (৪০)। আহত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেই অবস্থাতে ফের ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ায় তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। তারপর থেকে আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না স্বদেশের। শনিবার সকাল দশটা নাগাদ বাড়ির অদূরে একটি বাগান থেকে তাঁর দেহ মেলে।

সমতুলের পরিবারের দাবি, গত তিন দিন ধরে পুজো চলছে সরপোতা গ্রামে। সেখানেই তিনি ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেন। তাতেই তাঁর উপর চড়াও হন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। এবং পিটিয়ে মারা হয় তাঁকে। সমতুলবাবুর স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তাঁর একটি সাইকেল সারাইয়ের দোকান রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে সমতুলবাবুর দেহ নিয়ে আমতা-হাওড়া রোড অবরোধ করেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। পরে পুলিশ ও র‍্যাফ গিয়ে তাঁদের হটিয়ে দেয়।

বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ সভাপতি অনুপম মল্লিক বলেন, “গত শনিবারও ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ায় আমাদের এক কর্মীকে পিটিয়ে মারা হয়। আবারও একই ঘটনা ঘটল। মানুষ এ সব বেশিদিন মেনে নেবে না। আমরা চাই দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক।”

উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল বিধায়ক সমীর পাঁজা বলেন, “বিজেপির গোষ্টীদ্বন্দ্বের বলি হয়েছেন তিনি। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই।”

গত বছর পঞ্চায়েত ভোটের পরে পুরুলিয়ার বলরামপুরে বিদ্যুতের হাইটেনশন লাইন থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মিলেছিল বিজেপি কর্মী ত্রিলোচন মাহাতোর দেহ। তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার হয় এলাকার আরেক বিজেপি কর্মী দুলাল কুমারের ঝুলন্ত দেহ। এই ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। এমন কী এর ঢেউ পৌঁছেছিল দিল্লিতেও। ছুটে এসেছিলেন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ। এ বারের লোকসভা ভোটের মাঝে পুরুলিয়ার আড়শা থেকে উদ্ধার হয় শিশুপাল সহিস নামে আরেক বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ। প্রতিটা ক্ষেত্রেই খুনের অভিযোগ যেমন উঠেছিল, তেমনই আত্মহত্যার পাল্টা দাবিও ওঠে।

Comments are closed.