ফণী আতঙ্কে বুকিং বাতিল হচ্ছে দিঘা-মন্দারমণি-তাজপুরে

কিরণ মান্না, পূর্ব মেদিনীপুর : শুক্রবার রাতে বা শনিবার ভোরে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ফণী। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস এমনটাই। তার গতিবিধি আঁচ করে প্রস্তুত হচ্ছে রাজ্যের উপকুলবর্তী জেলা পূর্ব মেদিনীপুর।

জেলার ৭৮ কিলোমিটার উপকূল জুড়ে জারি হয়েছে কড়া সতর্কতা। কারণ ধীরে ধীরে উত্তাল হচ্ছে সমুদ্র। বাড়ছে হাওয়ার বেগও। দিঘা, শঙ্করপুর, মন্দারমনি, তাজপুরে পর্যটকদের সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে জারি হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। এমনিতে সপ্তাহান্তেই বেশি ভিড় হয় এই সৈকত শহরগুলিতে। এ বার ফণীর আতঙ্কে তাতে ভাটা পড়েছে বলে জানাচ্ছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। বেশিরভাগ বুকিংই বাতিল হয়েছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। দিঘা হোটেলিয়র্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা গিরীশ রায় জানান, পর্যটকদের অনেকেই তিন চার দিনের বুকিং নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু অনেকেই তা বাতিল করে ফিরে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, “হতে পারে সমুদ্রে স্নান করায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে ফিরে গিয়েছেন তাঁরা। আবার অনেকেই অবশ্য সমুদ্র ফুঁসে ওঠায় আতঙ্কেও বাড়ির পথ ধরেছেন। তবে মেঘলা আকাশ, দুরন্ত সমুদ্র দেখার টানে কিছু পর্যটক রয়ে গিয়েছেন এখনও।”

এ দিকে সোমবার থেকেই সমুদ্রের জোয়ার ভাটার ছন্দেও পরিবর্তন এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। কখনও এগিয়ে আসছে সময়, কখনও পিছিয়ে যাচ্ছে। ভূবিজ্ঞানী ডঃ আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়ের কথায়, “এই ছন্দপতন খুবই আশঙ্কাজনক। সাধারণভাবে বছরের এই সময় সমুদ্র শান্ত থাকে। তাই এই সময়টাই মাছেদের প্রজনন কাল। শক্তিশালী নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়েছে বলেই অশান্ত হয়ে উঠেছে সমুদ্র। নির্ধারিত সময় মেনে জোয়ার ভাটা না হওয়ার কারণও তাই।”

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পার্থ ঘোষ জানান, আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসের উপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছেন তাঁরা। ভোটের মুখে সমস্ত কর্মব্যস্ততাকে দূরে সরিয়ে আপাতত এ দিকেই মন দেওয়া হয়েছে।  জেলার ৭৮ কিলোমিটার উপকূলের মোট ছ’টি রেসকিউ সেন্টারকে তৈরি রাখা হয়েছে। উপকুল এলাকায় মাইকে প্রচার করে সতর্ক করা হচ্ছে এলাকার মানুষকে। পাশাপাশি সমুদ্রের খুব কাছে না যাওয়ার জন্য সচেতন করা হচ্ছে পর্যটকদেরও। তিনি বলেন, “এখন ফিসিং ব্যান পিরিয়ড চলছে। তাই গভীর সমুদ্রে কোনও মৎস্যজীবী নেই। ছোট মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে।”

সব মিলিয়ে চেনা চেহারাটা পুরোপুরি উধাও দিঘা-মন্দারমণি-তাজপুরের সমুদ্র সৈকতে। বরং আতঙ্ক আর সতর্কতার মেলবন্ধন যেন সৈকতনগরীগুলির পরতে পরতে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.