রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

‘বিনে পয়সার বাজার’ থেকে পুজোর বাজার করছেন পাল্লা রোডের অনেকেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান : হাতে গোনা আর কয়েকটা দিন। তারপরেই কাঠি পড়বে দুর্গাপুজোর ঢাকে। বাজার, শপিং মল, পছন্দের বুটিক ঢুঁড়ে পোশাক কেনার পালা তুঙ্গে। তবে সবাই যে এ দলে সামিল হতে পারছেন তা কিন্তু নয়। আর এঁদের কথা ভেবেই ‘বিনে পয়সার বাজার’ খুললেন পাল্লা রোডের পল্লী মঙ্গল সমিতির সদস্যরা।

অব্যবহৃত পোশাক যার বাড়িতে যেমন আছে, আলমারিতে তুলে না রেখে ক্লাবের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন পল্লী মঙ্গল সমিতির সদস্যরা। পোশাক কিনে পরার সামর্থ্য নেই যাঁদের, তাঁদের কথা ভেবেই এমন উদ্যোগ নেন ক্লাবের সদস্যরা। সে আবেদনে যে ভাবে সাড়া মিলেছে তাকে রীতিমতো ‘আশাতীত’ বলে বর্ণনা করছেন তাঁরা।

তাঁরাই জানালেন, অনেকেই জামা কাপড় ধুয়ে ইস্ত্রি করে দিচ্ছেন। কেউ আনছেন শুধু ধুইয়ে। এই সমস্ত কাচা জামাকাপড় লণ্ড্রিতে পাঠিয়ে ইস্ত্রি করে, প্রয়োজনে সেলাই করে ক্লাবের ঘরে ‘বিনে পয়সার বাজার’ এ সাজিয়ে রাখছেন তাঁরা। আর এই বাজারে এসেই পছন্দের শাড়ি-জামা-শার্ট বেছে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন তাঁরা, কোনও মতেই যাঁদের বাজার ঘুরে পোশাক কেনার ক্ষমতা নেই। সমিতির সদস্য সত্যজিৎ ঘোষ, “অব্যবহৃত জামা কাপড় চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলাম আমরা। তবে আমাদের উদ্দেশ্য শুনে অনেকেই নতুন জামাকাপড় কিনে পর্যন্ত দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের।”

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা থাকছে ‘বিনা পয়সার বাজার’। সমিতির সম্পাদক সন্দীপন সরকার বলেন, “কোনও রকম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছাড়াই মানুষের প্রয়োজনে ক্লাব ঘরে বিনা পয়সার বাজার চালু করেছি। আগামী দিনে বড় ঘরে শপিংমলের ধাঁচে ক্লথ ব্যাঙ্ক চালু করব, যাতে মানুষ তাঁদের পছন্দের পোশাক অনায়াসে পছন্দ করে নিয়ে যেতে পারেন।”

তিনি জানান, বহু মানুষ যেমন পোশাক দিতে আসছেন, নিতে যাঁরা আসছেন তাঁদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ‘বিনে পয়সার বাজার’ এ থাকছে অপছন্দের অধিকারও। শাড়ি বা জামাকাপড় নিতে এসে যদি পছন্দ না হয়, নাও নিতে পারেন কেউ। এমনকি থাকছে জামা প্যান্টের ফিটিং এর ব্যবস্থাও।

পরবর্তীতে প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে দুঃস্থ মানুষের কাছে বস্ত্র পৌঁছে দিতেও উদ্যোগী হবে সংস্থা।

Comments are closed.