বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

ভোটের তহবিল থেকে ‘কাটমানি’, সায়ন্তনের নামে পোস্টার বসিরহাটে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : নির্বাচনী খরচের জন্য দলের দেওয়া অর্থের একটা বড় অংশ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সায়ন্তন বসু সহ বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। এই মর্মে বসিরহাটের দেওয়ালে দেওয়ালে দেওয়া পোস্টার ঘিরে এখন সরগরম গোটা তল্লাট। পোস্টারের নীচে বিজেপির কর্মীবৃন্দ বলে উল্লেখ থাকায় অস্বস্তিতে পড়েছে দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বও।

সম্প্রতি বিজেপির কর্মীবৃন্দ নাম দিয়ে বসিরহাট শহরে ওই পোস্টার লাগানো হয়েছে। পোস্টারের বক্তব্য, বিজেপির সায়ন্তন বসু জানিয়েছিলেন, লোকসভা ভোটের জন্য ২ কোটিরও বেশি টাকা পেয়েছেন। তবে কেন টাকা পায়নি বুথকর্মীরা? সায়ন্তন বসু-সহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম করে তাঁরা কাটমানি নিয়েছেন বলে ওই পোস্টারে দাবি করা হয়েছে। টাকা যেমন কর্মীরা পাননি, তেমনি অডিট করা হয়নি বলেও অভিযোগ।

তবে দলের টাকা নেওয়ার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা বলে দাবি করেন বিজেপি জেলা সভাপতি গণেশ ঘোষ। তিনি  বলেন, “এ সমস্তই তৃণমূলের চক্রান্ত। কাটমানি কে দিয়েছে? কাকে দিয়েছে?” তবে তিনি আবার এ কথাও বলেন, “সায়ন্তন বসু যখন প্রার্থী হয়েছিলেন তখন যারা বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁরাই এখন হতাশ হয়ে পিছন থেকে নানা মন্তব্য করছে।” তবে কি তিনি দলেরই কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলছেন?

এ ব্যাপারে গণেশবাবু কোনও স্পষ্ট জবাব না দিলেও, পোস্টার কাণ্ডে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি হাজারিলাল সরকার। তিনি বলেন, “এটা তো ঠিক, যে, বুথ কর্মীদের টাকা দেওয়া যায়নি, অথচ দলের অনেক নেতার অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকা ঢুকেছে বলে শুনেছি।”

গোষ্ঠীকোন্দলের কথা অবশ্য স্বীকার করেননি সায়ন্তন বসু। তিনি বলেন, “কোনও পোস্টার পড়ে থাকলে তা তৃণমূলের কাজ। কাটমানি নিয়ে নিয়ে দলটার যা হাল হয়েছে তাতে এ সব করা ওদেরই শোভা পায়। ভোটের আগেও পোস্টার মারা হয়েছিল। কারা মেরেছিল তার হদিস এখন পাওয়া যায়নি।”

বসিরহাটের তৃণমূল নেতা কৌশিক দত্ত বলেন, “আসলে কারা কাটমানি নিয়েছে বিজেপির পোস্টারে তা পরিষ্কার। ওদের দলের মধ্যেই টাকা নিয়ে গন্ডগোল। নিজেদের মুখ ঢাকতে বিজেপির নেতারা এখন তৃণমূলের উপর এই পোস্টারের দায় চাপাচ্ছে।”

Comments are closed.