শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

‘জানেন এই মলে কী আছে?’ বোতলভর্তি মল হাতে মঞ্চে বক্তৃতা দিলেন বিল গেটস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালো স্যুট ও স্বভাবসিদ্ধ দৃপ্ত ভঙ্গিতে স্টেজের উপর উঠে আসলেন যে ব্যক্তি তাঁকে দেখার জন্য উৎসুক হয়ে ছিল গোটা হলঘরটা। অগণিত শ্রোতার জমায়েত শুধু তাঁর বক্তৃতা শুনবেন বলে। তিনি বিল গেটস। বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তির বক্তব্য বরাবরই খুব জনপ্রিয়। কিন্তু এ কি? হাতে একটা বোতল নিয়ে মঞ্চ দাঁড়ালেন বিল। গোটা ঘরে তখন পিন পড়ার মতো নিঃস্তব্ধতা। সবার কৌতুহলী চোখ বিলের হাতের বোতলকে ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে। বোতলের মধ্যে ঠেসে ভর্তি করা আছে যে জিনিসটা তার নাম উচ্চারণ করতে গেলেও মানুষ দু’বার ভাবেন। মল। বোতলভর্তি মল নিয়ে মঞ্চে উঠেছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা।

চমক দিতে বরাবরই পছন্দ করেন বিল। ২০০৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার টিইডি (TED-Technology, Entertainment, Design) কনফারেন্স হলে ম্যালেরিয়া নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দর্শকদের মাঝে মশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। যদিও সে মশা ছিল জীবানুমুক্ত। এ বারে তাঁর বিষয় মল। না ঠিক মল নয়, এ বারের বিষয় স্বচ্ছতা, সুস্থ ও সুন্দর রোগমুক্ত পৃথিবী গড়ার প্রচেষ্টা। চিনের বেজিংয়ে গত মঙ্গলবারই ছিল স্বচ্ছতা নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনাসভা। খোলা জায়গায় শৌচকর্ম ও শৌচালয় বিহীন এলাকার দুর্দশা ঘোচানোর জন্য বেশ কোমর কষেই নেমেছেন প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং। তারই একটি বিশেষ কর্মসূচি হল ‘টয়লেট বিপ্লব’ (Toilet Revolution)। এই কর্মসূচির বিশেষত্ব ও উপকারিতা বোঝানোর জন্যই ছিল ওই বিশেষ আসোচনা সভা। সেখানেই বক্তৃতা দিতে ডাক পড়েছিল বিন গেটসের।

হাতের মল ভর্তি বোতল পাশে রেখে নিজের বক্তৃতা শুরু করলেন বিল। প্রথমেই স্বচ্ছতার প্রসারে এমন উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানালেন চিনকে।বিল বললেন, “রোগ, ব্যধি, মৃত্যুই প্রমাণ করে আমরা অপরিচ্ছন্ন জায়গায় সব চেয়ে বেশি বসবাস করি। যতক্ষণ না মানুষ বুঝবে সুস্থভাবে বাঁচার ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা কী, ততক্ষণ এই সচেতনতা বাড়বে না। আর সুস্থ পরিবেশ মানেই সেখানে শৌচালয়ের একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ প্রাণির বর্জ্য থেকেই সবচেয়ে বেশি রোগ ছড়ায়। ” বোতলের মলের দিকে দেখিয়ে বিল বলেন, এই বর্জ্যের মধ্যে কোটি কোটি রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। মাঠে, ঘাটে খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করার সময় সেটা মানুষ একবারও ভাবে না। সবচেয়ে বড় কথা এই বিষয়ে মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা দুটোরই অভাব রয়েছে।

বিলের কথায়, “এই বোতল ভর্তি মলে কত জীবানু আছে জানেন? প্রায় ২০০ লক্ষ কোটি রোটা ভাইরাস কোষ, দু’হাজার কোটি শিগেলা ব্যাকটেরিয়া এবং এক লাখ পরজীবী কীট থাকতে পারে। ” বিলের মন্তব্য এর আগে তিনি কখনও ভাবেননি মল নিয়ে এত গবেষণা করে ফেলবেন। স্ত্রী মেলিন্ডার সঙ্গে খাবার টেবিলে বসে কথা বলবেন। বিজ্ঞান  প্রযুক্তির যুগে সবকিছুই যখন দ্রুতগামী তখন সুস্থভাবে বাঁচার চেষ্টা করাটাই কাম্য। তাঁর মতে চিনের এই বিপ্লব প্রশংসনীয় এই কারণে যে বিশ্বের বাকি দেশগুলির কাছেও এটা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

স্বচ্ছতার অভিযান নিয়ে আধুনিক পৃথিবীতে প্রচার ও কর্মশালা কিছু কম হচ্ছে না। ‘ডিজিটাল’, ‘ডিজিটাল’ রব তুলে ভারতও তার স্বচ্ছতার প্রচারে অগ্রবর্তী। গত কয়েক বছরে স্বচ্ছতা নিয়ে বেশ অনেকটাই এগিয়ে গেছে চিন। স্বচ্ছতা সম্পর্কিত গবেষণায় গত  সাত বছরে প্রায় ২০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে ‘দ্য বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ, সর্বত্রই শৌচালয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রচার করে এই ফাইন্ডেশন।  বিলের কথায়, “উন্নত দেশগুলি আধুনিক শৌচালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও এই স্বচ্ছতার অভিযান রয়েছে আঁধারেই। নিকাশী ব্যবস্থাও অনুন্নত অনেক দেশেই।”

ইউনিসেফ-এর রিপোর্ট বলছে গোটা বিশ্বে ৮৯২ মিলিয়ন মানুষ খোলা জায়গায় শৌচকর্ম করেন। ভারতে ২০১৪ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৫৫০ মিলিয়ন। তবে, বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ১৫০ মিলিয়নে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

Shares

Comments are closed.