শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪

প্রতিবন্ধকতা নিয়েই জয় করেছিলেন একের পর এক শৃঙ্গ, পদ্মশ্রী অরুণিমাকে সাম্মানিক ডক্টরেট দিল ব্রিটেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা গ্রাস করেছে, কিন্তু মনোবল টলাতে পারেনি। কৃত্রিম পা নিয়েই চড়েছেন বিশ্বের সুউচ্চ শৃঙ্গ। পেরিয়ে গেছেন একটার পর একটা জয়ের পাহাড়। এ হেন তেজস্বিনী অরুণিমা সিনহাকে এ বার সাম্মানিক ডক্টর উপাধি দিল ব্রিটেনের এক জনপ্রিয় ইউনিভার্সিটি।

গত মঙ্গলবার গ্লাসগোর ইউনিভার্সিটির অব স্ট্র্যাথক্লাইড অরুণিমাকে এই সম্মান দেয়। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করার প্রেরণা যোগাবে এই সম্মান, এমনটাই মনে করেন অরুণিমা। তাঁর কথায়, “শুধু ভারত নয় গোটা বিশ্বের তরুণ প্রজন্মের কাছে এটা একটা অনুপ্রেরণা। যতই প্রতিবন্ধকতা আসুক শারীরিক বা মানসিক, লক্ষ্য স্থির করে এগোলেই সাফল্য আসবে। তোমার কৃতিত্ব নজির তৈরি করবে।”

জন্ম উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগরে। একটা ট্রেন দুর্ঘটনা ওলটপালট করে দেয় একদা জাতীয় ভলিবল খেলোয়াড় অরুণিমার জীবন। চাকরির পরীক্ষা দিতে লখনৌ থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে একদল দুষ্কৃতী তাঁর জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে রুখে দাঁড়ান সাহসিনী। তাঁকে ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। হাঁটুর পর থেকে বাঁ পা বাদ দিতে হয় অস্ত্রোপচারে। দুঃস্বপ্নের শেষ এখানেই নয়। ঘটনাকে বিকৃত করে নানা রকম প্রাচর হয় সংবাদ মাধ্যমগুলিতে। কোথাও লেখা হয় ট্রেনের টিকিট না থাকার কারণে লজ্জায় ট্রেন থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন তিনি, আবার কোথাও খবর ছাপে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে গিয়ে পা খুইয়েছেন অরুণিমা।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে বিপুল মানসিক চাপ। এখান থেকেই শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।  ভারতের প্রথম মহিলা এভারেস্টজয়ী বাচেন্দ্রী পালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুরু হয় পাহাড়ে চড়ার প্রশিক্ষণ। কৃত্রিম পায়ের উপর তখনও সে ভাবে দখল নেই। বলেছেন, “পাহাড়ে চড়ার অভিজ্ঞতা আগে ছিল না। কিন্তু মনে হয়, আমার সঙ্গে যেটা হয়েছে সেটা বিশ্বের প্রথম ঘটনা নয়। আমাকে শৃঙ্গ জয় করতেই হবে। বাচেন্দ্রী পালের পূর্ণ সহযোগিতায় সেটা সম্ভব হয়।”

২০১৩ সালের ২১ মে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মনোবলে ৮,৮৪৮ মিটার পাড়ি দিয়ে পা রাখেন এভারেস্টের শিখরে। তার পর একে একে আফ্রিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার নানা শৃঙ্গ জয় করেন তিনি। বিশ্বের প্রায় ছ’টি মহাদেশের ছ’টি শৃঙ্গ তাঁর দখলে।  ২০১৫ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে তাঁকে ভূষিত করা হয়।

স্ট্র্যাথক্লাইড ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল ও ভাইস চান্সেলর জিম ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, “বিশ্বের সব প্রতিবন্ধীদের কাছে অরুণিমা অনুপ্রেরণা স্বরূপ। তাঁর প্রচেষ্টা, সাহস, একাগ্রতা এবং দক্ষতা অন্য মানুষদের চলার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

Shares

Comments are closed.