শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

ভাইফোঁটার স্বাদে বদল! পাত আলো করুক হরেক কিসিমের দক্ষিণী মিষ্টি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীপুজো, দিওয়ালি শেষ। এ বার ভাইফোঁটার পালা। ক্যালেন্ডারের পাতা মিলিয়ে এখন থেকেই তোড়জোড় শুরু গেছে ভাইফোঁটার। বাঙালির পার্বণ মানে তো মিষ্টির একটা বিরাট ভূমিকা রয়েছে। বারো মাসে তেরো পার্বণের হুজুকে বাঙালির থাকতে ভালবাসে রসে বশেই।  তাই যে কোনও উৎসবে ভোজের থালায় শেষ পাতে বেশ জমাটি মিষ্টি না হলে খাওয়াটাই থেকে যায় অসম্পূর্ণ। আর মিষ্টি মানেই বাঙালি ঘরানার  রসগোল্লা, গোলাপ জামুন বা হালফিলের চকোলেট সন্দেশ থেকে একটু অবাঙালি ধাঁচের ক্ষীর, জিলিপির মুচমুচে মজা। তবে যদি ভাইফোঁটাকে একটু ব্যতিক্রমী করতে চান তাহলে এই সব মিষ্টি ট্রাই করে দেখতেই পারেন। বানানোও সহজ, খেতেও সুস্বাদু। আর খাস দক্ষিণী মেজাজে আপনার উৎসবও হয়ে উঠবে জমজমাট।

দেখুন কী কী মিষ্টি রাখতে পারেন আপনার স্বাদবদলে তালিকায়

কোঝুকাট্টাই

এই মিষ্টি অনেকটা মোদক ধাঁচের। তবে সামান্য আলাদা। চাল পিষে, নারকেল ও গুড়ের সহযোগে মণ্ডের মতো বানানো হয়। চাইলে কেসর, পেস্তাও দিতে পারেন। তামিলনাড়ুর খাস মিষ্টি কোঝুকাট্টাই। যে কোন পার্বণে, বিশেষত বিনায়ক চতুর্থীর দিন এই মিষ্টি বানানো হয় রাজ্যে। এই মিষ্টির ঐতিহাসিক মূল্যও রয়েছে। বলা হয় ‘পিল্লাইয়ার’ বা গণেশের উপাসনায় তামিল কবি ও সাধুরা নাকি এই মিষ্টি নৈবেদ্য দিতেন।

পনিয়ারাম

মিষ্টিও আবার মুখরোচক নাস্তাও। দক্ষিণী এই খাবার পেটও ভরাবে, আবার মনও করবে খুশ। অনেকটা ইডলির মতো, একই রকম ব্যাটার প্যানে ভেজে তুলতে হয়। স্বাদ বাড়াতে গুড়, নারকেল এবং এলাচ যোগ করলেই কেল্লাফতে। পনিয়ারামের নানা নাম। আদর করে একে কেউ বলে পাড্ডু, কারওর কাছে গুন্টা পোঙ্গানালু, গুন্ডু পোঙ্গানালু।  ভাইফোঁটার থালায় পনিয়ারাম দিয়েই দেখুন না, বাঙালির রসনায় ঝড় তুলবেই।

মাইসোর পাক


জনশ্রুতি আছে, রাজ ঘরানার রাঁধুনি কাকাসুর মাদাপ্পা এই মিষ্টির প্রবর্তক এবং পাচকও বটে। মূলত কর্ণাটকেই এই মিষ্টির জন্ম। তবে এর অধিকার নিয়ে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর বিবাদ বহুদিনের। দুই রাজ্যেই সমান সমাদর মাইসোর পাকের। মাইসোরের সায়্যাজি রাও রোডে গুরু সুইট মার্টে এখনও মাদাপ্পার বংশধরেরা এই মিষ্টি বানান। ঘি এবং এলাচের সহযোগে এই মিষ্টির মেজাজই আলাদা। সন্দেশের মতো কড়া পাকও নয়, আবার রসগোল্লার মতো রসে টইটম্বুরও নয়। তুলতুলে নরম, হাল্কা রসে ভরা মাইসোর পাক থেলে মন বলবে বাহ!

বাদুশা

রসে ভরা ভাজা মিষ্টি। দিওয়ালির সময় বিশেষ করে ভাজা হয় দক্ষিণের নানা মিষ্টির দোকানে। ঘরে রসে পাক দিয়ে বানান মহিলারা। স্বাদে ও আকারে বলা যেতে পারে বাঙালি বালুসাইয়ের জাতভাই। কেসর, পেস্তা সহযোগে সেটা আরও মোহময় হয়ে ওঠে। ছোট আকারের বাদুশাকে বলা হয় চিট্টি বাদুশা। দক্ষিণের যে কোনও উৎসবে এই চিট্টি বাদুশার বেশ রমরমা।

খুবানি কা মিঠা

অন্ধ্রপ্রদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টি। খুবানি বা পিচ জাতীয় ফল সারারাত চিনির শিরায় ডুবিয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে সেটার মণ্ড বানিয়ে চিনি দিয়ে পাক দিয়ে ছোট ছোট মিষ্টির আকারে গড়া হয়। দই, ক্রিম বা মধু দিয়ে ভিজিয়ে খাওয়া খুবানি কা মিঠা। হায়দরাবাদের যে কোনও বিয়ের অনুষ্ঠান আলো করে থাকে এই মিষ্টি।

মুত্তামালা

কেরলের মোপলা সম্প্রদায়ের পছন্দের ডেসার্ট মুত্তামালা। অনেকটা পুডিংয়ের মতো। ডিমের কুসুম গরম চিনির শিরায় ফেলে দিয়ে বানানো হয় মুত্তামালা। ডিমের কুসুম এমন ভাবে মেশানো হয় যাতে দেখতে অনেকটা মালার মতো লাগে। তাই এই নাম।

কাজিকায়ালু

মিষ্টি দেখতে বাঙালি পিঠের মতো। কাজিকায়ালু বা কারাচিকা অনেক নাম এই মিষ্টির। অন্ধ্রে এর জনপ্রিয়তা কারানজি নামে। ময়দার মোড়কে নারকেল পুর ও ড্রাই ফ্রুটস ভরে কড়া পাকে মুচমুচে ভেজে তোলা হয় কাজিকায়ালু। সিদ্ধ করে ভাপা পিঠার মতোও বানানো হয় এই মিষ্টি।

সিনি মিট্টাই

তামিলনাড়ুর ঐতিহ্য। অনেকটা  জিলিপির মতো। চাল, উড়ার জাল আর এলাচের মিশ্রণ পাক দিয়ে দিয়ে ছাঁকা তেলে ভেজে তোলা হয়। মুচমুচে, খাস্তা এই মিষ্টি যে কোনও অনুষ্ঠানেই খুব জনপ্রিয়।

 

Shares

Comments are closed.