শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

‘রবি-মুলুকে’ তুমুল কোন্দল তৃণমূলে, অভিযোগও তাঁর দিকেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দলের এক অঞ্চল সভাপতিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে কোচবিহারে ফের কোন্দল তুঙ্গে উঠল তৃণমূলের অন্দরে। আবারও উঠল একই অভিযোগ। আর তা হল দলের সুপ্রিমো যাই নির্দেশ দিক না কেন, বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অবজার্ভাররা যাই চান না কেন এখানে যে তাঁর কথাই শেষ কথা, আবারও বকলমে প্রমাণ করে দিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

খুব সম্প্রতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ফলিমারির তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি শিশির ইশোরকে। জেলা তৃণমূল সভাপতির সঙ্গে কথা বলেই তাঁকে সরানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন কোচবিহার ১ নম্বর ব্লক সভাপতি খোকন মিঞাঁ। এরপরেই স্থানীয় বিধায়ক মিহির গোস্বামী দাবি করেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনিই তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। অথচ তাঁর সঙ্গে কোনও কথা না বলেই ফলিমারির অঞ্চল সভাপতিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। যা দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অবজার্ভাররাও জানেন না।মিহিরবাবু-র অনুগামীদের অভিযোগ, এটা যেন রবিবাবুর মুলুক। কারও সঙ্গে আলোচনা না করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন উনি।

বিধায়ক ও তাঁর অনুগামীরা এ সব প্রশ্ন তুলতেই খোকন মিঞাঁ জানিয়ে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁর একক নয়। জেলা সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেই ফলিমারির অঞ্চল সভাপতি শিশির ইশোরকে পরিবর্তন করেছেন। এলাকায় অশান্তি ও যুব ও মাদারের গন্ডগোলের কারণেই অঞ্চল সভাপতি পরিবর্তন বলেও জানিয়েছেন তিনি। আর এই বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন “এই ব্যাপারে যা বলার ব্লক সভাপতি খোকন মিঞাঁ বলবেন।”

সম্প্রতি কলকাতায় দলের রাজ্য কোর কমিটির বৈঠকে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের কোথাও কোনও কমিটি ভাঙা যাবে না। প্রয়োজনে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত অবজার্ভার এই সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু দলনেত্রীর এই নির্দেশ আর সব জেলায় মান্যতা পেলেও তা কাজে আসেনি কোচবিহারে। আর ব্লক সভাপতি খোকন মিঞাঁর সাফ কথা তিনি দলের জেলা সভাপতির সাথে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গল্প এখানেই শেষ নয়। শিশির ইশোরকে সরিয়ে যাঁকে ফলিমারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই  মণীন্দ্রনারায়ণ  ইশোর জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে কথা না বলেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। আজ কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামী সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, “জেলাতে কোথাও কোনও পরিবর্তন করতে নিষেধ করেছেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ যে পরিবর্তন হয়েছে  সে সম্পর্কে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত অবসার্ভারও অবগত নন। দলের নেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে যা করা হয়েছে তা দলের নীতি বিরুদ্ধ। আমার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কোনও অঞ্চলের সভাপতির পরিবর্তন রাজ্য স্তর থেকে করা হয়নি। ফলে যারা দায়িত্বে আছেন তাঁরাই দলের কাজ করবেন।”

বিগত দিনেও এমন অনেক পরিবর্তনের উদাহরণ রয়েছে জেলা তৃণমূলে। বছর দেড়েক আগে কোচবিহার এক নম্বর ব্লকে কার্যকরী সভাপতির একটি পদ তৈরি করে বসানো হয়েছিল আজিজুল হককে। তিনি জেলা সভাপতির ঘনিষ্ট বলে অভিযোগ। বছর খানেক আগে দিনহাটা ১ নম্বর ব্লকের সভাপতি সুবল রায়কে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয়েছিল নূর আলমকে। তিনিও রবীন্দ্রনাথ ঘোষের কাছের মানুষ হিসেবেই জেলার রাজনীতিতে পরিচিত। আবার হঠাৎ করেই দলের জেলা কোর কমিটিতে জায়গা পেয়ে গিয়েছিলেন বর্তমানে জেলে থাকা মুন্না খান। এ সব কিছু নিয়েই দলের অন্দরে বিস্তর জল ঘোলা হয়েছিল। ফলিমারির অঞ্চল সভাপতি পদে বদল সেই বিতর্ককেই উস্কে দিল ফের।

Shares

Comments are closed.