টাকা জমা দিয়েও চার বছরে মেলেনি শৌচাগার, এখনও আড়াল খুঁজতে হয় মাঠে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

কৌশিক দত্ত, কেতুগ্রাম : কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে প্রচার। স্বচ্ছ ভারত আর মিশন নির্মল বাংলার। এতসব জানেন না কেতুগ্রামের গঙ্গাটিকুরির বাসিন্দারা। তাঁরা জানেন, চার বছর আগে নশো টাকা করে দিয়েছিলেন বাড়িতে শৌচাগার তৈরি করতে। কিন্তু চার বছর পরে এখনও মাঠে গিয়ে আড়াল খুঁজতে হয় তাঁদের।

কেতুগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের গঙ্গাটিকুরি গ্রামের বাসিন্দারা তাঁদের ঘরে ঘরে শৌচালয় করে দেওয়ার আবেদন করেছিলেন ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে। পরিবার পিছু ৯০০ টাকা করে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতে জমা দিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের তরফে সেই টাকার রশিদও দেওয়া হয় আবেদনকারীদের। দীর্ঘ চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সেই শৌচাগার তৈরি করে দেয়নি পঞ্চায়েত। তাই ক্ষোভ বাড়ছে গ্রামবাসীদের। বৃহস্পতিবার শৌচাগারের দাবি নিয়ে মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হয়েছিল গোটা গ্রাম।

গ্রামের বাসিন্দা ভুবন মাঝি, বাবলু মাঝিরা বলেন, “বহুবার পঞ্চায়েতে গিয়েও কোনও ফল হয়নি। টাকা দিয়েছিলাম। সেই রশিদ দেখালে বলা হয় ঠিক সময়ে শৌচালয় বানিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই ঠিক সময়টা কবে হবে, জানি না। এখনও প্রতিদিন ভোররাতে উঠে আমাদের মাঠে ছুটতে হয়।”

আরেক বাসিন্দা অনিতা দাস বলেন, “শুনি সব গ্রামে শৌচালয় হয়ে গেছে। বাড়ির মহিলাদের আর লজ্জার মাথা খেয়ে মাঠে যেতে হয় না। কিন্তু আমাদের এখানে তো সেই অন্ধকারেই পড়ে রয়েছি। যে টাকা চাওয়া হয়েছিল তার পুরোটাই কিন্তু দিয়েছিলাম আমরা। ফল হল না কোনও।”

বাসিন্দারা ভুক্তভোগী। প্রশাসনের কাছে অবশ্য এর কোনও খবরই নেই। গ্রামবাসীদের ক্ষোভের কথা জানতে পেরে কাটোয়ার মহকুমা শাসক সৌমেন পাল বলেন, “বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।” আর কেতুগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অরিজিৎ দাসের সাফাই, “গ্রামবাসীরা টাকা জমা দেওয়া সত্ত্বেও কেন শৌচাগার পায়নি খোঁজ নেব।”

সত্যিই খোঁজ নেবেন তো তাঁরা? আশ্বাস পাওয়ার পরেও এখন এই প্রশ্ন ঘুরছে গঙ্গাটিকুরিতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More